জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচার সুযোগ থাকলে ভদ্রলোক আপাতত তাই করতেন। একসময় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অংকের শিক্ষকতা করেছেন তিনি। অংক তাঁর প্রিয় বিষয়। অনেক জটিল অংক ছাত্র-ছাত্রীদের বুঝিয়ে দিয়েছেন মিনারেল ওয়াটারের মতো। যদিও তাঁর ধারণা পৃ্থিবী জটিল কোনো নিয়মে চলেনা। জগতের সকল হিসাব শুধু যোগ আর বিয়োগ!
কিছুদিন শিক্ষকতা করবার পর বিরক্তি ধরে গেলো তাঁর। দুপুরে খেতে বসেন, মাথায় ঘুরঘুর করে পাটি গণিতের-একটি বানর তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে প্রতি সেকেন্ডে তিন ফিট উপরে উঠে আবার পরের সেকেন্ডে পা ফসকে দুই ফিট নেমে যায়...ধরণের সমস্যা! অনেক ভেবেও তিনি বের করতে পারেননি তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে বানরের উপরে উঠার দরকারটা কী ছিলো! দেশে কি তেল ছাড়া বাঁশ ছিলোনা! কে তৈ্রি করেছে এমন অংক?
রাতে ঘুমোতে যান, মাথায় ভনভন করে বীজ গণিতের প্যাঁচ লাগানো সূত্রাবলি! রীতিমত হাফিয়ে উঠলেন তিনি। শিক্ষকতা ছেড়ে একটি বেসরকারি ফার্মে চাটার্ড একাউন্টেট হিসেবে জয়েন করলেন। এরপর দীর্ঘ ২৭ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথেই কাজ করেছেন। অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করেছেন। মিলিয়েছেন অনেক না মিলা হিসাব। অথচ আজ...
আজ রিটায়ারমেন্টে এসে সহজ একটি হিসাব মিলাতে পারছেন না! অনেক ভেবেও যে হিসাবটি তিনি মিলাতে পারছেন না, তা হলো, এক জীবনে একজন মানুষের কতো টাকা দরকার? কতো
? কতো টাকা হয়ে গেলে মানুষ তৃপ্ত হয়ে যাবে। বলবে, ব্যাস, আমার আর দরকার নেই।
মোট কতো হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলে একজন মানুষ আর খোলা আকাশের নিচে থর থর করে কাঁপতে থাকা অসহায় ঘরনাই'দের ভাগ্যের কপালে থাবা বসাবে না। কতো টাকা হলে? কতো লাগে জীবনে একজন মানুষের??
২য় যে কারণে ভদ্রলোক আজ উদ্বিঘ্ন, সেটিও পাটি গণিতের অনুপাতের সূত্রের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি তাঁর ৬২ বছরের জীবনে মোট দু'বার চালের টিন খুলে নেয়ার দৃশ্য দেখেছেন। তিনি হিসাব মিলাতে পারেন নি কোন টিন খোলায় কেমন লজ্জা? কার লজ্জা?
মাত্র বছর তিনেক আগের কথা। মেয়ের বাড়ি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। জটলা দেখে দাঁড়ালেন একটু। দেখলেন টিন খোলার দৃশ্য...
হাজার হাজার কোটি টাকা আছে তাদের! সাদা কালো বেগুনি, সকল কালারের টাকাই আছে। হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গরীবের পা'চেটে কিছুদিনের জন্যে পাওয়া ক্ষমতা (কু)কাজে লাগিয়ে সেই গরীবের ভাগ্যের টিন চুরি করে লাগিয়ে রেখেছেন নিজের বাড়িতে বা ফ্যাক্টরিতে! সেনাবাহিনি অভিযান চালিয়ে ভাইজানের চাল থেকে টিনগুলো খুলে নিচ্ছে!
ভদ্রলোকের মাথায় তখন যে অংকটি ঘুরাঘুরি করছিলো, তা হলো, একটি টিন সমান কতোটি পরিবারের অভূক্ত থাকা??
তিনি বিস্মিত হয়ে দেখলেন টিনচুর অই মালদার'রা চেহারায় ট্রেডমার্ক হাসি নিয়ে ক্যামেরার সামনে তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলে তৈ্রি ভিক্টরি সাইন করছে! ভদ্রলোকের বড়বেশি জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছিলো,টিন চুরি কোন পর্যায়ের বিজয়?? তিনি ভেবে পেলেন না লজ্জা তাদের কাছ থেকে কতো আলোকবর্ষ দূরে চলে গেছে!!!
চালের টিন খোলার আরেকটি ঘটনাও দেখেছেন তিনি। সেটা আরো ক'বছর আগে। সঠিক তারিখ মনে করতে পারলেন না। বয়স হয়েছে। স্মৃতি ক্ষমতাও বুড়ো হয়ে গেছে। আবছা আবছা মনে পড়লো...
সেদিন আকাশ ছিলো মেঘলা। ঘনঘন বিদ্যুত চমকাচ্ছে আকাশে। জানান দিচ্ছে বৃষ্টি মেঘমালা থেকে বিদায় নিয়ে তোমাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে দিয়েছে। যে কোনো সময় এসে পড়বে। তৈ্রি হও।
মানুষটি আর তৈ্রি হতে পারেনি। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখলো, তার স্ত্রী'র আহাজারি, বাচ্চাদের আর্তনাদ এবং তার নিজের সকল অনুনয়-বিনয় অগ্রাহ্য করে মহাজন খুলে নিয়ে যাচ্ছেন তার ঘরের টিনগুলো! মহাজন স্ব-উদ্যোগী হয়ে ৫২ সপ্তাহের প্যাঁচ লাগিয়ে ঋণ দিয়েছিলেন। কথা ছিলো প্রতি সপ্তাহে মহাজনের মুখে হাড্ডি তুলে দেয়া হবে। সাথে থাকবে গোশতও।
বাড়তি গোশতের যোগাড় করবার জন্যে সে ১৭ হাজার টাকা দিয়ে একট গাভিও কিনেছিলো। ৩০ হাজার টাকা ঋণের বাকী ১৩ হাজার টাকা দিয়ে দুই বান্ডিল টিন এনে লাগিয়েছিলো ঘরের চালে।
দুর্ভাগ্য তার। গাভিটি হুট করে মারা গেলো!
এমনিতেই মানুষটি গরীব। এবারে আরো অসহায় হয়ে পড়লো। যাকে বলে উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলো'য়। তবুও সন্তানদের আধ পেট খাইয়ে পরিশোধ করে যাচ্ছিলো মহাজনের কিস্তি, সুদ সহ।
গত কয়েকটি কিস্তি সে দিতে পারেনি। মেঝ মেয়েটি কীভাবে কীভাবে জানি টাইফয়েড বাধিয়ে বসলো! ১৫ দিন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি-হাসপাতাল করতে করতে অবস্থা একেবারে কাহিল!
মহাজনের পায়ে ধরে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলো মানুষটি- আগামী সপ্তাহে সব বকেয়া মিটিয়ে দেব, চালের টিনগুলো খুলে নেবেন না। দয়া করুন।
মহাজন দয়া করেন নি। দয়া করার জন্য তার জন্ম হয়নি। অকথ্য গালিগালাজ করে টিনের সাথে ঘরের দরজা-জানালাগুলোও খুলে নিয়ে বীরের মতো চলে গেলেন। এমন বীরত্ব দেখানোর ক্ষমতা আছে বলেই না তিনি নোবেল বিজয়ী!
ভদলোক দেখলেন, মানুষটি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শূণ্য চালের দিকে। যে বৃষ্টি এতক্ষণ আকাশে ছিলো, সেটা তার চোখে চলে এসেছে! দু'চোখ দিয়ে অঝরে বইছে তার বিরামহীন ঝরণা। গাল বেয়ে বেয়ে লোনা জলগুলো গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে। বাচ্চাগুলোকে নিয়ে এখন সে কোথায় যাবে?ছোট মেয়েটি সবেমাত্র সাত মাসে পড়েছে।
হঠাৎ ৭ ও ৯ বছরের ছেলে দু'টি দৌঁড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো মানুষটিকে। বিচিত্র কোন কারণে তাদের চোখে পানি নেই! বড়দের মতো শান্তনা দেবার ভঙ্গিতে বললো,
কাঁদছো কেনো বাবা? আমাদের কথা ভেবে? কিন্তু এই দেখো, আমরা তো কাঁদছিনা! চালের টিন খুলে নিয়েছে তো কী হয়েছে! আমরা আছি না? আমরা তোমার সম্পদ না বাবা? কতো মানুষ তো গাছতলাতেই জীবন কাটিয়ে দেয়। তুমি তেমন একটা গাছ খুঁজে নিও, আমরা অখানেই থাকতে পারবো।
ছোট্ট বাচ্চাদের এমন কথা শুনে মানুষটি আর স্থীর থাকতে পারলোনা। কেঁদে উঠলো এবার শব্দ করে । সন্তান দু'টিকে জড়িয়ে নিলো বুকের সাথে। একটু আগেই তার মনে হচ্ছিলো,বেঁচে থাকার আর কোনো মানে হয়না! এখন আবার মনে হচ্ছে, এমন সন্তান যার আছে, সে বাপ আর ক'টা দিন বেঁচে থাকলে মন্দ হয় না। সকল কষ্ট জয় করে তার ঠোঁটের কোণায় উদয় হল এক চিলতে হাসি। তখনো মানুষটির চোখে টল টল করছে পানি!
ভদ্রলোক চলে এলেন অখান থেকে। আর আসতে আসতে মনে মনে বললেন, এই চোখের পানিগুলো বেকার যাবেনা। কাজে লাগবেই। গরীবের চোখের পানির ক্ষমতা অনেক বেশি। হাজার নোবেলের ক্ষমতা থেকে অবশ্যই বেশি। এই কষ্টের পানির ফোটাগুলো অপমানের তিলক হয়ে তার কপালে বসবেই। বেইজ্জতির মালা হয়ে গলায় ঝুলবেই।
আমি জানিনা ভদ্রলোক আজ কোথায়? তিনি কি দেখছেন নোবেলওয়ালার পরিনতি!!!!
কিছুদিন শিক্ষকতা করবার পর বিরক্তি ধরে গেলো তাঁর। দুপুরে খেতে বসেন, মাথায় ঘুরঘুর করে পাটি গণিতের-একটি বানর তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে প্রতি সেকেন্ডে তিন ফিট উপরে উঠে আবার পরের সেকেন্ডে পা ফসকে দুই ফিট নেমে যায়...ধরণের সমস্যা! অনেক ভেবেও তিনি বের করতে পারেননি তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে বানরের উপরে উঠার দরকারটা কী ছিলো! দেশে কি তেল ছাড়া বাঁশ ছিলোনা! কে তৈ্রি করেছে এমন অংক?
রাতে ঘুমোতে যান, মাথায় ভনভন করে বীজ গণিতের প্যাঁচ লাগানো সূত্রাবলি! রীতিমত হাফিয়ে উঠলেন তিনি। শিক্ষকতা ছেড়ে একটি বেসরকারি ফার্মে চাটার্ড একাউন্টেট হিসেবে জয়েন করলেন। এরপর দীর্ঘ ২৭ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথেই কাজ করেছেন। অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করেছেন। মিলিয়েছেন অনেক না মিলা হিসাব। অথচ আজ...
আজ রিটায়ারমেন্টে এসে সহজ একটি হিসাব মিলাতে পারছেন না! অনেক ভেবেও যে হিসাবটি তিনি মিলাতে পারছেন না, তা হলো, এক জীবনে একজন মানুষের কতো টাকা দরকার? কতো
? কতো টাকা হয়ে গেলে মানুষ তৃপ্ত হয়ে যাবে। বলবে, ব্যাস, আমার আর দরকার নেই।
মোট কতো হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলে একজন মানুষ আর খোলা আকাশের নিচে থর থর করে কাঁপতে থাকা অসহায় ঘরনাই'দের ভাগ্যের কপালে থাবা বসাবে না। কতো টাকা হলে? কতো লাগে জীবনে একজন মানুষের??
২য় যে কারণে ভদ্রলোক আজ উদ্বিঘ্ন, সেটিও পাটি গণিতের অনুপাতের সূত্রের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি তাঁর ৬২ বছরের জীবনে মোট দু'বার চালের টিন খুলে নেয়ার দৃশ্য দেখেছেন। তিনি হিসাব মিলাতে পারেন নি কোন টিন খোলায় কেমন লজ্জা? কার লজ্জা?
মাত্র বছর তিনেক আগের কথা। মেয়ের বাড়ি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। জটলা দেখে দাঁড়ালেন একটু। দেখলেন টিন খোলার দৃশ্য...
হাজার হাজার কোটি টাকা আছে তাদের! সাদা কালো বেগুনি, সকল কালারের টাকাই আছে। হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গরীবের পা'চেটে কিছুদিনের জন্যে পাওয়া ক্ষমতা (কু)কাজে লাগিয়ে সেই গরীবের ভাগ্যের টিন চুরি করে লাগিয়ে রেখেছেন নিজের বাড়িতে বা ফ্যাক্টরিতে! সেনাবাহিনি অভিযান চালিয়ে ভাইজানের চাল থেকে টিনগুলো খুলে নিচ্ছে!
ভদ্রলোকের মাথায় তখন যে অংকটি ঘুরাঘুরি করছিলো, তা হলো, একটি টিন সমান কতোটি পরিবারের অভূক্ত থাকা??
তিনি বিস্মিত হয়ে দেখলেন টিনচুর অই মালদার'রা চেহারায় ট্রেডমার্ক হাসি নিয়ে ক্যামেরার সামনে তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলে তৈ্রি ভিক্টরি সাইন করছে! ভদ্রলোকের বড়বেশি জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছিলো,টিন চুরি কোন পর্যায়ের বিজয়?? তিনি ভেবে পেলেন না লজ্জা তাদের কাছ থেকে কতো আলোকবর্ষ দূরে চলে গেছে!!!
চালের টিন খোলার আরেকটি ঘটনাও দেখেছেন তিনি। সেটা আরো ক'বছর আগে। সঠিক তারিখ মনে করতে পারলেন না। বয়স হয়েছে। স্মৃতি ক্ষমতাও বুড়ো হয়ে গেছে। আবছা আবছা মনে পড়লো...
সেদিন আকাশ ছিলো মেঘলা। ঘনঘন বিদ্যুত চমকাচ্ছে আকাশে। জানান দিচ্ছে বৃষ্টি মেঘমালা থেকে বিদায় নিয়ে তোমাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে দিয়েছে। যে কোনো সময় এসে পড়বে। তৈ্রি হও।
মানুষটি আর তৈ্রি হতে পারেনি। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখলো, তার স্ত্রী'র আহাজারি, বাচ্চাদের আর্তনাদ এবং তার নিজের সকল অনুনয়-বিনয় অগ্রাহ্য করে মহাজন খুলে নিয়ে যাচ্ছেন তার ঘরের টিনগুলো! মহাজন স্ব-উদ্যোগী হয়ে ৫২ সপ্তাহের প্যাঁচ লাগিয়ে ঋণ দিয়েছিলেন। কথা ছিলো প্রতি সপ্তাহে মহাজনের মুখে হাড্ডি তুলে দেয়া হবে। সাথে থাকবে গোশতও।
বাড়তি গোশতের যোগাড় করবার জন্যে সে ১৭ হাজার টাকা দিয়ে একট গাভিও কিনেছিলো। ৩০ হাজার টাকা ঋণের বাকী ১৩ হাজার টাকা দিয়ে দুই বান্ডিল টিন এনে লাগিয়েছিলো ঘরের চালে।
দুর্ভাগ্য তার। গাভিটি হুট করে মারা গেলো!
এমনিতেই মানুষটি গরীব। এবারে আরো অসহায় হয়ে পড়লো। যাকে বলে উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলো'য়। তবুও সন্তানদের আধ পেট খাইয়ে পরিশোধ করে যাচ্ছিলো মহাজনের কিস্তি, সুদ সহ।
গত কয়েকটি কিস্তি সে দিতে পারেনি। মেঝ মেয়েটি কীভাবে কীভাবে জানি টাইফয়েড বাধিয়ে বসলো! ১৫ দিন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি-হাসপাতাল করতে করতে অবস্থা একেবারে কাহিল!
মহাজনের পায়ে ধরে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলো মানুষটি- আগামী সপ্তাহে সব বকেয়া মিটিয়ে দেব, চালের টিনগুলো খুলে নেবেন না। দয়া করুন।
মহাজন দয়া করেন নি। দয়া করার জন্য তার জন্ম হয়নি। অকথ্য গালিগালাজ করে টিনের সাথে ঘরের দরজা-জানালাগুলোও খুলে নিয়ে বীরের মতো চলে গেলেন। এমন বীরত্ব দেখানোর ক্ষমতা আছে বলেই না তিনি নোবেল বিজয়ী!
ভদলোক দেখলেন, মানুষটি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শূণ্য চালের দিকে। যে বৃষ্টি এতক্ষণ আকাশে ছিলো, সেটা তার চোখে চলে এসেছে! দু'চোখ দিয়ে অঝরে বইছে তার বিরামহীন ঝরণা। গাল বেয়ে বেয়ে লোনা জলগুলো গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে। বাচ্চাগুলোকে নিয়ে এখন সে কোথায় যাবে?ছোট মেয়েটি সবেমাত্র সাত মাসে পড়েছে।
হঠাৎ ৭ ও ৯ বছরের ছেলে দু'টি দৌঁড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো মানুষটিকে। বিচিত্র কোন কারণে তাদের চোখে পানি নেই! বড়দের মতো শান্তনা দেবার ভঙ্গিতে বললো,
কাঁদছো কেনো বাবা? আমাদের কথা ভেবে? কিন্তু এই দেখো, আমরা তো কাঁদছিনা! চালের টিন খুলে নিয়েছে তো কী হয়েছে! আমরা আছি না? আমরা তোমার সম্পদ না বাবা? কতো মানুষ তো গাছতলাতেই জীবন কাটিয়ে দেয়। তুমি তেমন একটা গাছ খুঁজে নিও, আমরা অখানেই থাকতে পারবো।
ছোট্ট বাচ্চাদের এমন কথা শুনে মানুষটি আর স্থীর থাকতে পারলোনা। কেঁদে উঠলো এবার শব্দ করে । সন্তান দু'টিকে জড়িয়ে নিলো বুকের সাথে। একটু আগেই তার মনে হচ্ছিলো,বেঁচে থাকার আর কোনো মানে হয়না! এখন আবার মনে হচ্ছে, এমন সন্তান যার আছে, সে বাপ আর ক'টা দিন বেঁচে থাকলে মন্দ হয় না। সকল কষ্ট জয় করে তার ঠোঁটের কোণায় উদয় হল এক চিলতে হাসি। তখনো মানুষটির চোখে টল টল করছে পানি!
ভদ্রলোক চলে এলেন অখান থেকে। আর আসতে আসতে মনে মনে বললেন, এই চোখের পানিগুলো বেকার যাবেনা। কাজে লাগবেই। গরীবের চোখের পানির ক্ষমতা অনেক বেশি। হাজার নোবেলের ক্ষমতা থেকে অবশ্যই বেশি। এই কষ্টের পানির ফোটাগুলো অপমানের তিলক হয়ে তার কপালে বসবেই। বেইজ্জতির মালা হয়ে গলায় ঝুলবেই।
আমি জানিনা ভদ্রলোক আজ কোথায়? তিনি কি দেখছেন নোবেলওয়ালার পরিনতি!!!!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন