সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১০

এমন বন্ধু থাকলে শত্র“র দরকার কী



হৃদপিন্ডে যদি পছন ধরে যায়, তাহলে আর রক্ষে নেই। রোগীকে টেকানোই মুশকিল। অবশ্য হায়াত থাকলে এবং সময়মতো বাইপাস সার্জারী করানো গেলে একটু আশা থাকে। হৃদপিন্ড হচ্ছে শরীরের এমন একটি অংশ, যাকে কেটে ফেলেদেবারও সুযোগ নেই। হৃদপিন্ডে পছন বলতে ব্লাড সার্কুলেশনে সমস্যার কথাই বুঝাতে চাইছি আমি। হৃদপিন্ডের কাজ হলো রক্তকে মর্টিফাই করে পরিশুদ্ধ করা, শুদ্ধ রক্তকে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়া, নষ্ট রক্তকে বর্জ্য বানিয়ে বা বাষ্প আকারে বের করে দেয়া। হৃদপিন্ডে রক্তের যাতায়াতের রাস্তা হলো দু’টি। একটি হলো ইনলাইন অন্যটি আউটলাইন। ইনলাইন মানে হৃদপিন্ডে রক্ত প্রবেশের রাস্তা আর আউটলাইন মানে বের হবার। কোনো কারণে যদি কোথাও রক্ত চলাচলে বিঘ্র ঘটে, তাহলে রোড ব্লক্ড হয়ে যায়। তখন রোগীর মৃত্যু ঘটে। ডাক্তারদের ভাষায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়া। 



মুসলিম জাতিরও একটা হৃদপিন্ড আছে। বিশ্ব মুসলিমের শরীরে রক্তের সার্কুলেশন ঠিকঠাক রাখার কথাছিলো এই হৃদপিন্ডটির। কিন্তু আজকাল সে নিজেই ভোগছে রক্ত শূন্যতায়। একাধিক স্থানে ব্লক্ড্ হয়ে আছে। বাইপাস দরকার। হৃদপিন্ডটির নাম সৌদি আরব। আমাদের এই হৃদপিন্ডে পছনের আলামত দেখা যাচ্ছে। প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সহসাই সারিয়ে তোলা না গেলে অস্তিত্বের শেকড়টিকে আমাদের টিকিয়ে রাখাই হবে মুশকিল। বিশ্বনবী সা. হরম শরীফের আঙিনায় ইয়াহুদী-খৃস্টানদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে গেছেন। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইঙ্গ মার্কিন সেনাদেরকে হাফপ্যান্ট পরে পবিত্র সেই আঙিনায় ঘুরে বেড়াতে দেখাগেছে। তা-ও জোর করে নয়, সৌদি কর্তৃপক্ষের দাওয়াতি মেহমান হয়ে! ইরাকে, লেবাননে, আফগানে মুসলিম নিধন চলছে। সৌদি আরব কিছু বলে নি। ফিলিস্তিনি মুসলমানকে সকাল সন্ধ্যা হত্যা করে চলেছে ইজরাঈল। সৌদি আরবের মনে দুঃখ লাগেনি এতটুকুও। আর আজ ... 

মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা মহা পরাক্রমশালী শাসক হযরত উমর রা. হজ্বের সময় হায়্রে আসওয়াদ বা কালো পাথরে চুমো খাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘‘হ্যা-রে পাথর! তোর যে চেহারা, তাতে তোকে তো চুমো খাওয়ার প্রশ্নই আসতো না। আমি আমার নবীকে দেখেছি তোকে চুমো খেতে, তাই আমি তোকে চুমো খাচ্ছি। ভাবিস না তোর রূপে মুগ্ধ হয়ে বা তোর প্রতি ভালবাসায় আমি এ কাজ করছি’’। সৌদি আরবের নিকটঅতীত ও সা¤প্রতিক কান্ড-কারখানাকে সামনে রাখলে আমারও খুব বলতে ইচ্ছে করবে, হ্যা-রে আরব! তোর বুকে আমার ক্বিবলাটি, পবিত্র কা’বা ঘরটি রয়েছে বলে আমি তোকে সম্মান করি। দেড়হাজার বছর আগে আমাদের একজন প্রিয় মানুষ, সব'চে প্রিয় মানুষ তোর কোলে এসেছিলেন বলে তুই আমাদের প্রিয়। তোর মাটিতে আমাদের সেই ভালবাসার মানুষটি শুয়ে আছেন বলে আমরা তোর মাটিকে ভালবাসি। তা না হলে তোর যে খাসলত, তাতে তোকে ভালবাসা দূরে থাক, ঘৃণাই করতাম না আমরা। একজনের সাথে অন্যজনের সম্পর্ক হতে পারে দু’ধরনের, (১) ভালবাসার সম্পর্ক (২) ঘৃণার সম্পর্ক। তোকে ঘৃনা করলেও তো একটা সম্পর্ক সাবিত হতো। আমরা সেটাও চাইতাম না। কিন্তু কী করবো। তোর সৌভাগ্য যে, কা’বা ঘর এবং বিশ্বনবীর রওজাহ তোর বুকে। আর এটাই আমাদের দুর্বলতা। আমাদের মজবুরী। 

দুই

. ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের অবৈধ মিলনে জন্ম নেয়া জারজ একটি রাষ্ট্র হলো ইজরাঈল। ইজরাঈল কাহাকে বলে, উহা কত প্রকার ও কি কি? ইয়াসির আরাফাত ভাল বলতে পারতেন। হাড়ে হাড়ে ঠের পেয়েছিলেন তিনি। ফিলিস্তিনের সেই ছোট্ট শিশুটি, সবেমাত্র কথা বলতে শিখেছে যে, জিজ্ঞেস করুন তাকে, ইজরাঈল সম্বন্ধে। চোখ-মুখ সাদা করে ভয়ে আত্কে উঠবে সে-ও। স্বামী-সন্তান হারানো ফিলিস্তিনের কোনো বিধবা বোনকে আমার প্রশ্ন করুন, ইজরাঈল ও আজরাঈলের মধ্যে কাকে বেশি ভয় করে সে? জবাবে ইজরাঈলের কথাই বলবে। এর কারণ, সে জানে, আজরাঈল কাজ করেন ইন্সাফের মানদন্ডে। কষ্ট তিনি শুধু পাপীদেরই দেন। আর ইজরাঈল সামনে যাকে পায়, তাকেই মারে। পাপ পূণ্য বুঝেনা, শিশু বুড়ো দেখে না। শুধু দেখে লোকটি মুসলমান কি না! প্রথম প্রথম ইজরাঈল ছিলো বিচ্ছিন্নতাবাদি একটি গ্র“প। আস্তিনের ভেতরের শাপের মতো। সেই আস্তিনটি ছিলো বুড়ো শয়তানের। অস্তিত্বের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তখন তারা রক্তপাত ঘটাতো। ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তারা ছিলো হিংস্র পশুর ভূমিকায়। বিশ্বের বড়মোড়ল ছিলো সাথে। নেপথ্যে থেকে ইন্দন যোগাতো। আর এখন সেই ইজরাঈল রীতিমতো ঢাকঢুল পিটিয়ে সাম্রাজ্যবাদি আগ্রাসি মনোভাব নিয়ে সামনে এগুতে চাইছে, কারণ, বড় শয়তান এখন আর নেপথ্যে থেকে নয়, পাশে থেকেই সাহস যোগাচ্ছে। 

বর্তমান বিশ্বের ভয়ংকর প্রভাবশালী কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে একটি হলো ইজরাঈলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে তারা ইজিলি প্যাঁচ লাগিয়ে দিতে পারে। তারা আজ এতটাই ক্ষমতাশালী ও সামর্থবান যে, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো পরিবেশে যে কোনো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে। অতি স¤প্রতি তারা সেটার প্রমাণও দিয়েছে। মোসাদের পাক্কা ইনফরমেশন ও প্লান অনুযায়ী ইজরাঈলি ক্যাডাররা দুবাই শহরে ঢুকে হামাস’র এক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে নির্বিঘেœ আবার স্বদেশে ফিরে যেতেও সক্ষম হয়। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হচ্ছে এমন, হামাস নেতা মাহমুদ আল মাবহু দুবাই শহরের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। যে সংবাদ ফিলিস্তিনিরাও জানতো না। মোসাদের মাধ্যমে ইজরাঈলিরা সেটা খুঁজে বের করে। তারপর ১২ জন ইজরাঈলির একটি গ্র“প জাল ব্রিটিশ পাসপোর্ট তৈরি করে। আর এই জাল পাসপোর্ট তৈরিতে তাদের সহায়তা করেন ব্রিটেনে নিযুক্ত একজন ইজরাঈলি কুটনীতিক। যাকে স¤প্রতি ব্রিটিশ সরকার ব্রিটেন থেকে বহিষ্কার করেছে। ১২ জনের সেই দলটি ভুঁয়া ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে সকলের চোখ ফাকি দিয়ে প্রবশে করে সেই হোটেলে। হামাস নেতা মাহমুদ আল মাবহু কে হত্যা করে সহি সালামতে আবার তারা তাদের দেশে ফিরে যেতে সক্ষম হয়। 

তিন

. অতি স¤প্রতি সৌদি আরব একটি ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা ইরানে হামলা চালানোর জন্য ইজরাঈলকে সৌদিআরবের আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে। গত ১২ জুন দ্য লন্ডন টাইমস্ সূত্রে জানাগেছে এ সংবাদ। ইরান পারমানবিক অস্ত্র তৈরি করছে বলে জাতিসংঘের মাইক্রোফোনে যুক্তরাষ্ট্র বেশ আগে থেকেই হামকে-তুমকে করছিলো। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নামের একচোখা সংস্থাটি একটার পর একটা অবরোধের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছিলো ইরানের ঘাড়ে।সম্প্রপ্রতি চতুর্থ দফা অবরোধের ঘোষণা দেয়ার পরপরই এই সংবাদ প্রকাশ পায়। জানাযায় সৌদি সরকার ইরানে হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে। ইজরাঈলি বোমারু বিমান সৌদি সীমান্তে প্রবেশ করলে সৌদি সেটা দেখেও দেখবে না। সৌদি সেনাবাহিনীকে সেভাবেই বার্তা পৌছে দেয়া হয়েছে। ইরানের যে স্থানে পারমানবিক স্থাপনা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, ইজরাঈল থেকে সেখানকার দূরত্ব ১ হাজার ৪শ মাইল। ইজরাঈলি জঙ্গি বিমান আকাশে রিফুয়েলিং করলেও এই দূরত্ব অতিক্রম করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। আমাদের সৌদি সরকার ইজরাঈলের এই মুশকিল আসান করে দিয়েছে। 

সৌদি সরকার সিদ্ধান্তটি যে হুট করে নেয় নি, সেটা টাইমস’র রিপোর্ট থেকেই জানাগেছে। ইজরাঈলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু অনেক আগে থেকেই ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। নেতানিয়াহুর পূর্বসুরী এহুদ ওলমার্ট ইরান প্রসঙ্গে সৌদি সরকারের সাথে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। ২০০৯ সালে ইজরাঈলের গোয়েন্দা বিভাগ ‘মোসাদ’ এর প্রধান মায়ার দাগানও সৌদি গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরান আক্রমনের জন্য সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারের ব্যাপারে ফলপ্রসু আলোচনা হয় বলে জানা যায়। দফায় দফায় অনুষ্ঠিত সেই গোপন বৈঠকগুলোর সূত্র ধরেই অতি স¤প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের সাথে সৌদি আরব একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুসারে সৌদি সরকার ইজরাঈলি জঙ্গি বিমানকে ইরানে হামলা চালাতে নিজ আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে রাজি হয়। 

চার.

সৌদি আরবের চোখে পশ্চিমা পর্দা পড়ে যাওয়ায় তারা হয়তো দেখতে পায়নি কিন্তু বিশ্ববাসী তো দেখেছে, গত মে মাসে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাগামী তুরস্কের ত্রাণবাহি জাহাজে কিভাবে বর্বর হামলা চালিয়েছিলো এই ইজরাঈল। কিভাবে ১৯ জন নিরীহ ত্রাণ কর্মীকে হত্যা করে জাহাজটি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো। সৌদি আরব ভুলে গেলেও বিশ্ব মুসলিম কিন্তু ভুলে যায়নি এই ইহুদীরাই আরবের মাটি থেকে নবীজির লাশটি চুরি করতে চেয়েছিলো। সেই ইহুদী, সেই ইজরাঈলের প্রতি সৌদি আরবের প্রেম উত্লে উঠার কী কারণ থাকতে পারে, আমার বুঝে আসেনা। যদি বলা হয় ইরান পারমানবিক শক্তিধর হলে সেটা সৌদি আরবের জন্যও হুমকি, সৌদি যদি এটাই মনে করে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে হৃদপিন্ডের সাথে সাথে তাদের ব্রেইনও ডেমেজ হয়ে গেছে। মুসলিম কোনো দেশ শক্তিশালী হলে তো আতংকিত হবার কথা অমুসলিমদের। সৌদি আরব ভয় পাবে কেন? নাকি কাফেরদের সাথে দহরম মহরম করতে করতে তারা নিজেদেরকেও ওদের কাতারে গণ্য করতে শুরু করেছে? আল্লাই জানে। ঈমান-আকীদার প্রশ্নে অভ্যন্তরীন অবস্থা যাই হোক, ইরান একটি ইসলামী রাষ্ট্র। জাতিসংঘ হোক, আমেরিকা হোক বা ইজরাঈল, তারা শিয়া-সুন্নি বুঝে না, আকীদার ধার ধারেনা। তারা শুধু দেখে দেশটি মুসলিম কি না? আর একটি মুসলিম দেশে হামলা চালানোর জন্য নিজের বুকের উপর দিয়ে রাস্তা করে দেয়ার আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত যখন নেয় আরেকটি মুসলিম রাষ্ট্র, তখন কপাল থাপড়ানো ছাড়া আর কী করার থাকে? 

আমি জানিনা ইরান সত্যি সত্যিই পারমানবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে কি না! যদি করে থাকে, তাহলে সেটা দেখবে জাতিসংঘ। ইজরাঈল নয়। আর এ ব্যাপারে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নেয়ার আগে নিশ্চিত করতে হবে নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো দেশের কাছেও অবৈধ অস্ত্র নেই। ইজরাঈলের কাছে পারমানবিক অস্ত্র থাকা হালাল হলে ইরানের জন্য হারাম হবে কেন? ইজরাঈলের ভান্ডারে মানবতা বিরুধী গোলাবারুদের পাহাড় জমে থাকবে, তারা তাফালিং করবে ইচ্ছে মতো, মারবে যাকে খুশি, আর মুসলিম দেশগুলো বসে বসে শুধু মার যাওয়ার অপেক্ষা করবে, তা তো হতে পারে না। কিন্তু আফসোসের কথা হলো, এই সত্য কথাটি সাহসের সঙ্গে উচ্চারণ করার মতো একজন লোকও নেই। 

একসময় আমরা দেখলাম ইরাকে অবৈধ অস্ত্রের কারখানা রয়েছে অজুহাতে হামলা চালানো হলো ইরাকে। মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হলো মুসলিম এই দেশটিকে। সাদ্দামকে বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে ঝুলিয়ে দেয়া হলো ফাসিতে। বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ থেকে কেউ একজনও আজ পর্যন্ত জাতিসংঘকে জিজ্ঞেস করতে পারলেন না আজ অব্দি ইরাকে কি অবৈধ অস্ত্রের স্থাপনা পাওয়া গেছে? তাহলে কেন ছিল সেই বর্বরতা? মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ ভাবে একটি হুংকার দিতে পারতো, যদি শুধু বলতো, কোনো মুসলিম রাষ্ট্রকে অন্যায়ভাবে আক্রমন করা যাবে না, তাহলে আমরা আমাদের তেল বন্ধ করে দেবো, অমুসলিম কোনো রাষ্ট্রকে তেল দেবো না: তাহলেই তাদের তেলতেলি কমে যেতো। একটি দিন মাত্র তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিলে পাগলা কুকুরের মতো লেজ ফেলে সোজা হয়ে যেতো ওরা। কিন্তু আমি জানি, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো সেটা করবে না। তাদেরকে করতে দেয়া হবে না। একটা একটা করে মুসলিম রাষ্ট্র ধরা হবে। প্রথমে ধরা হবে সেগুলোকে, যেগুলোর মেরুদন্ড একটু মজবুত। ইরাকের মেরুদন্ড মজবুত ছিলো, ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। মাধ্যম বানানো হয়েছে কুয়েতকে। ইরানকে মারতে ব্যবহার করা হবে সৌদি আরবকে। গাদ্দাফীর লিবিয়াতো অনেক আগেই গর্তের ভেতর ঢুকে গেছে। পাকিস্তানকে পাকিস্তানিদের দ্বারাই সাইজ করা হচ্ছে। বাদবাকী মেরুদন্ডহীন মুসলিম দেশগুলো নিয়ে তাদের তেমন একটা মাথা ব্যাথা নেই। 

মুসলমান মুসলমানের ভাই। ভাই’র শরীরে আঘাত পড়লে অন্য ভাই’র কষ্ট পাবার কথা। মুসলমান মুসলমানের বন্ধু। বিপদেই বন্ধুর পরিচয়। সৌদি আরব হলো মুসলিম বিশ্বের সবচে কাছের বন্ধু। কিন্তু সৌদির সা¤প্রতিক কান্ডকীর্তিকে সামনে রাখলে বলতেই হবে, এমন বন্ধু থাকলে আর শত্র“র কোনো দরকার নেই। বিশ্বের দেড়শ কোটি মুসলমানের পক্ষ থেকে আমরা সৌদি আরবের প্রতি তীব্র ক্ষোভ, ঘৃনা ও ধিক্ষার জানাই। সেই সঙ্গে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়ার কামনা করি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন