বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১০

খাল কেটে হাঙর নিয়ে আসা !!!

বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে অনেক লিখেছি আমি। এক দেশ থেকে দ্বিতীয় দেশের ভেতর দিয়ে তৃতীয় দেশে গিয়ে বের হলে সেটা ট্রানজিট। আর দ্বিতীয় দেশ ঘুরে আবার নিজ দেশে এসে যুক্ত হলে সেটার নাম হয় করিডোর।

ভারত থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ঢুকে আবার ভারতেরই অন্য অঞ্চল দিয়ে বের হবার যে পায়তারা করছে ভারত, যে কোনো সংজ্ঞায়ই এটা করিডোর। 

আমাদের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবিরা এটাকে ট্রানজিট বলছেন কোন যুক্তিতে, আল্লাই জানে !! আমাদের অবশ্য বুঝার কথাও না। আমরাতো আর বুদ্ধিজীবি না। আমাদের কাছে তো এটাকে খাল কেটে হাঙর নিয়ে আসাই মনে হচ্ছে।

বাতাসে ভেসে বেড়ানো সূত্রে জানা গেছে ইতোমধ্যে ভারতের সাথে নাকি ট্রানজিট চুক্তি সই করা হয়েও গেছে! হয়ে গিয়ে থাকলে বলতে হবে কাজটা ভালো হয়নি! এতবড় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুটি সংসদে ব্যাপকভাবে আলোচনা করেই কেনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না? গালি-গালাজের ফাঁকে ফাঁকে এই কাজগুলোও তো করা যায়!

ভারতের জন্য ট্রানজিট বা করিডোর দরকার তাদের দেশের স্বাধীনতাকামী(তাদের ভাষায় বিচ্ছিন্নতাবাদী)সেভেন সিস্টারসকে সাইজ করবার জন্যে ! 
১৯৭১ এ এই অঞ্চলের মানুষগুলোই আমাদেরকে সাহায্য করেছিলো সবচে বেশি। নিজেদের প্লেটের ভাত শেয়ার করেছিলো আমাদের সাথে। আজ তারা যখন তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে, তখন আমাদের কাছে সাহায্যও চাইছে না, বলছে তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে যেনো না দাড়াই।

আমরা কতো বড় অকৃতজ্ঞ, সেই কাজটুকু পর্যন্ত আমরা করতে চাইছি না ! নিকট ভবিষ্যতে এটা যে আমাদের জন্য আত্মঘাতি হতে পারে, কেউ কি সেটা ভেবে দেখেছেন?

মাঝেমধ্যে শোনা যায় উলফা নেতাদেরকে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনকি আমার দেশের ভেতর থেকে ভারতীয় সেনারা এসে ধরে নিয়ে যাবার সংবাদও আমরা পত্র-পত্রিকা মাধ্যমে জেনেছি।
কেনো?
আসাম-ত্রিপুরা-সেভেন সিস্টারস, এটা সমস্যা হয়ে থাকলে ভারতের আভ্যন্তরীণ সমস্যা। আমরা জড়াবো কেনো? দুশমনের কি এতই অভাব পড়ে গেছে আমাদের ? 
সেধে দুশমন বাড়ানোর কি খুব বেশি দরকার?

আজকের আমাদের সময়'র নিউজের সূত্র ধরেই বলছি।
আমাদের মুহতারামা পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন,ভারত-বাংলাদেশ ট্রানজিট চুক্তি বেদ বাক্য নয় যে, পরিবর্তন করা যাবে না। এর মানে দেশবাসীকে মোটামুটি অন্ধকারে রেখেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে ! 
অতঃপর আমাদের কপালে কী আছে- কে বলতে পারে!!

 আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে, সত্য কথা। সেখানে বাংলাদেশের যেমন স্বার্থ ছিল, ভারতেরও ছিল । যে নিয়তই করুক, ভারত আমাদের সাহায্য করেছে, এটাই সত্যি। 
আবার ভারত সাহায্য করেছে তার নিজের স্বার্থে-এটাও ঠিক। অনেকগুলো স্বার্থের মধ্য একটি হতে পারে এই যে, পাকিস্তান ছিলো তাদের দুশমন। আর (পশ্চিম) পাকিস্তান তখন আমাদেরও দুশমন অন্য কথায় আমরা পাকিস্তানের দুশমন। আর দুশমনের দুশমন বন্ধুই হয়ে থাকে। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমরাও চাচ্ছিলাম, ভারতও চাচ্ছিলো। তবে উদ্দেশ্য ছিলো ভিন্ন। আমরা স্বাধীনতা চাচ্ছিলাম হায়েনাদের কবল থেকে মুক্তির জন্য। অধিকার নিয়ে বাঁচবার জন্য। আর ভারত চাইছিলো পাকিস্তান খন্ড হয়ে যাক।

৭১ এ সাহায্য করেছে বলে ভারতকে যথাসাধ্য সাহায্য আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে; তাই বলে বাংলাদেশের বুকে পুকুর খনন করে ভারতকে সাহায্য ???  

আমাদের কথা হচ্ছে, সবকিছুর উপরে দেশের স্বার্থ রাখতে হবে। দেশটাতো আমাদের সকলের। এ দেশকে তো আমরা আর আওয়ামীলীগ-বিএনপি'র কাছে লিজ দিয়ে দিই নি!!!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন