জীবনের আবাহন, সম্মোহন, স্বপ্নলোকের চাবি,
ঘরেফেরা, শুরু করা, জীবনের গান।
দখিনা বাতায়ন,
হিমেল হাওয়া,
ঝাকে ঝাকে হাসনাহেনার গন্ধ।
মনমাতানো,
নেশাধরানো,
অদ্ভুত অনুভূতি।
ভালোবাসার নায়ে চেপে দুই জোড়া চোখ,
চোখে চোখ রাখা,
পাল তুলে চেয়ে থাকা সুদূরে।
জোসনার আলো গায়ে মেখে এঁকে-বেঁকে
এগিয়ে যাওয়া,
পুস্পকানন এবার বৃষ্টিতে ভিজবে।
নীলাকাশ। এতো নীল।
যদি ছুঁতে পারতাম!
একমুঠো নীল যদি আমার হতো!
সাজিয়ে রাখতে পারতাম পূর্ণিমার দ্বিতীয় প্রহরে,
জোসনার মলাটে।
মেশানো যেতো জীবনের রঙে।
স্বপ্নগুলো কোনো যে নীড়ে ফেরে না।
অবেলার সাতকাহন আর কতো!
বাবুই কতো সুখি।
নীড় আছে,
স্বপ্ন আছে,
স্বপ্নকে স্পর্শ করার হাত আছে।
আমার নেই কেনো?
উড়ন্ত স্বপ্নচারি,
ভাবনার জগতকে বলো গুডবাই। কারণ,
পুস্পকানন এবার বৃষ্টিতে ভিজবে।
এ যাবৎ জীবনে, কত শত স্মৃতি কথা,
এলোমেলো, ছড়ানো, সুখ-দু:খ জড়ানো,
জমে থাকা কথামালা,
জমে থাক।
শব্দের গাঁথুনি, বাক্যের ডামাঢোল,
কথার পিঠে কথা, না বলা কথামালা,
চাপা থাক।
আজ কোনো কথা নেই।
কতোদিন, বহুদিন,
অন্যকে রাঙাতে,
দিবানিদ ভাঙাতে
এশা হয়েছে নিশা।
নাওয়া-খাওয়া শিকেয় তুলে গড়ে দিয়েছে
কত যুগলের সৌধ।
আর কতো?
জানি তুমি আসবে।
কে তুমি! অশরীরি!
হানা দিয়েছো ঘুমকাননে?
স্বপ্নের পাজর ভাঙার শব্দ কত নির্মম,
তা তো তুমি শুনতে পাওনি মেয়ে!
আঁধারের কালোকে, কী দরকার ছিলো
আলো দেয়া, ক্ষণিকের,
নাইবা যদি থাকবে!
মেয়ে কে তুমি!
এলেই যখন, নিরবে,
বারবার অনুভবের দোলায় চড়ে,
অস্তিত্বের জানান দিলে না কেনো?
কতদিন ভোরবেলা খোঁজেছে তোমায়!
স্বপ্নের আকাশে,
পাতালে।
তন্ন তন্ন করেছে গহীন অরণ্য।
বাতাসে ভালোবাসার গন্ধ,
পিছু নিয়েছে।
পায়নি কেনো?
স্বপ্নচারি!
স্বপ্নকন্যা তোমার, ভুল ভেঙেছে,
বুল ফুটেছে।
বাড়িয়েছে হাত।
চলো, হাতে হাত রাখো।
গড়ে তুলো স্বপ্নের প্রাসাদ।
আজাদীর যবনিকা, মন যদি ভেঙে যায়,
খুশি হও এই ভেবে,
পুস্পকানন এবার বৃষ্টিতে ভিজবেই।
স্বপ্নচারির হাতধরে স্বপ্নবোনার স্বপ্ন,
স্বপ্নখরার বেসাতি, বৃষ্টি নেই!
বেদনার নীল ফেড়ে মুখ তুলে তাকানো,
রঙধনুর সাত-সপ্তমি,
খোঁজে ফেরা ভালোবাসার রঙ।
কী যেনো?
একজীবনের ধুলোমাখা স্বপ্ন,
ছাইপাশের স্তুপ,
স্বপ্নেরা উঁকি দিতে চায়।
প্রতীক্ষার প্রহর গোনা, একপশলা বৃষ্টির।
কথাগুলো, আশাগুলো,
তিলে তিলে লালিত স্বপ্নের ভাষাগুলো,
বুকে ছিলো। মুখ ছিলো, ছিলো না।
আহারে!
একজন কেউ যদি একবার,
শুধুমাত্র একবার, বলতো,
চলো ধরো হাত...
স্বপ্নচারিনি,
চোখ বুঝি ভিজেছে! মুছে নাও।
আবেগের বেগদ্বার খোলে দাও।
চোখ খোলো, মুখ তোলো আকাশে-
পুস্পকানন এবার বৃষ্টিতে ভিজবেই।
নিভৃত স্বপ্নচারি,
একজন আবুল কালাম।
আজাদ ছিলো।
অন্তহীন আজাদী, মানে নেই।
লাগামহীন জীবনে, হতে নেই, হতে দিতে নেই।
সানাইয়ের সুর, বহুদিন, দূরে ঠেলে দিতে নেই।
একজন স্বপ্নচারিনি,
সালমা বোধ’য়।
নামের বাঁকে বাঁকে শান্তির কণাগুলো,
আশাগুলো, ভালোবাসাগুলো
বেঁচে থাক, সাথে থাক।
গড়ে উঠুক নন্দনকানন সেই।
বাগানবাড়ির বাতায়নগুলো
জড়িয়ে যাবে লতানো ডালে,
যাক না।
বেলি-চাঁপার কলকাকলিতে জেগে উঠবে অন্য কোনো কুসুমকলি।
উঠুক না।
জানি পরে কী হবে!
ঐ যে!
সেই কলি ফুল হবে।
জানান দেবে পাপড়ি মেলার।
পুস্পকানন এবার...
কলি হোক, ফুল হোক,
ফুলে ফুলে ভরে উঠুক বাগানটি।
প্রতিদিন ভোর হোক,
ঘুম থেকে জাগা হোক ফুলেদের চিৎকারে!
পড়শীর মুখে মুখে চলুক কথা-
কোন কাননের ফুল যেনো...?
ধৈর্য ও প্রতীক্ষার রজনী,
এ তো শুধু একদিক।
উল্টো পিঠেই তার প্রাপ্তি ও আনন্দ,
অপরূপ দিন-রাত।
দিবসের এই দ্বি-প্রহরে জীবনের জয় হোক।
ক্ষয় হোক অপ্রাপ্তির।
কষ্ট জরা হতাশা, ঘুছে যাক, মুছে যাক। পুস্পকাননে অমীয় ঝরণাধারা,
জীবনের জয় হোক।
জীবনের দুপুরে
এসে,
হেসে,
ভালোবেসে,
বলার আছে কিছু?
দরকার নেই।
আজ কোনো কথা নয়।
কোনো কথা শোনা নয়।
আজ শুধু বৃষ্টি ভেজার দিন।
চোখে চোখ রাখা- জয় হোক।
হাতে হাত রাখা- জয় হোক।
বুকে মাথা রাখা- জয় হোক।
জীবনের জয় হোক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন