কী আছে কুরআনে ? এটি একটি অপরিপক্ষ প্রশ্ন । প্রশ্নটি যদি হয় এমন; কী নেই কুরআনে,তাহলে হয়তো প্রশ্ন কিছুটা যু্তসই হয় । একটি গল্প বলি ।
একলোক বাড়ি থেকে বেরুনোর সময় তার উড়নচন্ডি স্বভাবের স্ত্রী আবেগে গদগদ হয়ে বললো; ওগো, মার্কেট থেকে আমার জন্যে কী আনবে ?
স্বামী বললো,আনবো কিছু একটা ।
স্ত্রী বললো ,বলো না সেটা কী ?
স্বামী বললো,কী চাও তুমি ?
স্ত্রী তখন রসিকতা করে বললো, চাই তো অনেক কিছুই। সম্ভব হলে তো বলতাম পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে এসো । কিন্তু সেটাতো আর সম্ভব না ।
অই বেটা তখন বউয়ের লেলিয়ে লেলিয়ে কথাবলায় নেতিয়ে পড়েছে । বললো, আচ্ছা ঠিক আছে, আজ আমি তোমার জন্য পৃথিবীর সবকিছুই নিয়ে আসবো ।
হেসে উঠলো স্ত্রী । বললো,তুমি তো দেখছি পাগল হয়ে গেছো । পৃথিবীর সবকিছু তুমি আমার জন্য নিয়ে আসবে কেমন করে ? সেই ক্ষমতা কি তোমার আছে নাকি ?
অশিক্ষিত গ্রাম্য হলেও স্বামী বেচারা পুরুষ তো । স্ত্রীর কথায় তার পৌরসে গিয়ে আঘাত লাগলো । কিছু সময়ের জন্য হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বলে বসলো, আজ আমি অবশ্যই তোমার জন্যে পৃথিবীব সবকিছু নিয়ে আসবো। যদি না পারি, তাহলে তুমি তালাক হয়ে যাবে, বলেই বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে । ঘন্টা দুয়েক পর, মাথা থেকে যখন আবেগের ভূত নেমেছে, পড়লো মহা দুর্ভাবনায় । পৃথিবীর সবকিছু তো সে জীবনেও কিনে ফেলতে পারবে না। আবার বউকে শর্তসাপেক্ষে তালাকও বলে এসেছে । এখন উপায় ?
বেশকিছু আলেমের সাথে দেখা করলো সে । সমস্যার সমাধান চাইলো । সকল আলেমই তাকে জানালেন; বউকে আর ধরে রাখার কোনো উপায় নেই । পৃথিবীর সবকিছু বউকে দিয়েদেয়া যেহেতু কখনো সম্ভব না । লোকটি মাথার চুল টানতে টানতে দিশেহারা মতন ঘুরতে লাগলো ।
একলোক তার কাহিনি শুনে বললো, নারে ভাই, আমিও তোমার কোনো উপায় দেখছি না । তবে আমি তোমাকে একটি বুদ্ধি বাতলে দিচ্ছি । জানি তাতেও লাভ হবে না । তবুও চেষ্টা করে দেখতে পারো । তুমি একজনের কাছে যেতে পারো । শুনেছি তিনি মস্তবড় আলেম । কিছু হলেও হতে পারে ।
লোকটি চলেগেলো অই আলেমের কাছে । বিস্তারিত শুনার পর অই আলেম বললেন; অতবড় কথা বলার দরকার কী ছিলো ?
সে বললো, ভুল হয়েগেছে হুজুর । মস্তবড় ভুল হয়েগেছে । রাগের মাথায় আবেগের বশে কী বলতে কী বলে ফেলেছি, বুজতেই পারি নি । আর কখনো এমন হবে না। আপনি আমাকে এবারের মতো বাঁচিয়ে দিন । মুক্তির উপায় বলে দিন । আমি আল্লাহকে ভয় করি,আবার স্ত্রীকেও ছাড়তে চাই না। আমি আমার স্ত্রীকে বড়বেশি ভালোবাসি ।
অই আলেমের চেহারায় তখন হাসির রেখা ফুটে উঠলো। তিনি বললেন, আর কখনো এমন হবে না তো ?
লোকটি বললো, জ্বি না হুজুর । জীবনে এমন কথা ভুলেও উচ্চারণ করবো না ।
অই আলেম তখন বললেন; মনে থাকে যেনো । এখন যাও,কোনো লাইব্রেরি থেকে একখানা কুরআন শরীফ নিয়ে তোমার স্ত্রীর হাতে ধরিয়ে দাও । তাহলে তোমার স্ত্রীকে আর তালাক দেয়া হবে না ।
এতবড় জটিল সমস্যার এই সহজ সমাধান পেয়ে লোকটি অবিশ্বাস্য চোখে তাকাতে লাগলো আলেমের দিকে । ব্যাপারটি লক্ষ্যকরে তিনি বললেন; তুমি নিশ্চিন্তে এটা করতে পারো । আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি । তুমি তোমার স্ত্রীকে বলেছিলে না পৃথিবীর সবকিছু তাকে দিয়ে দিতে না পারলে তার উপর তালাক হয়ে যাবে? পবিত্র কুরআন হচ্ছে এমন এ কিতাব,যার ভেতরে পৃথিবীর সবকিছুই আছে।
লোকটি বিড়ম্বনার হাত থেকে বেঁচেগেলো। যে বিখ্যাত আলেম লোকটিকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন, পাঠক উনাকে আপনারাও চেনেন । উনার নাম নুমান বিন সাবিত। বিশ্ব মুসলিমের কাছে যিনি ইমাম আবু হানিফা নামে পরিচিত ।
দুই \
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীর সবকিছুই কুরআনে আছে,কথাটি কি আবেগী? কিংবা হুজুগে? প্রযুক্তির এই যুগে আবেগ বা হুজুগের তো স্থান নেই । বাস্তবতার মানদন্ডে যুক্তির নিরিখেই সকল কিছু বিশ্লেষন করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে উন্নতি ও অগ্রগতির পরিমাপক মনে করা হয় বিজ্ঞানকে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ফায়সালা কী?
মূল আলোচনায় যাবার আগে একটি কথা বলে রাখি। কুরআনকে বলা হয়েছে হাকিম । হাকিম মানে বিজ্ঞানময়। বর্তমান বিশ্বের বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তির শেষ নির্যাসটুকু ব্যবহার করেও কুরআনের কোনো একটি বাক্য বা শব্দকে অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করা যাবে না।
বলা হব, অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের থিওরীর সাথে কুরআনের বক্তব্য মিলে না কেনো? অথবা কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের অনেক সূত্রের অমিল কেনো?
এ ক্ষেত্রে সহজ সরল বক্তব্য হচ্ছে , বর্তমান যুগে আধুনিকতাবাদি ও প্রযুক্তির স্লোগনধারীদের মধ্যে যারা মুসলমান, যারা কুরআন ও আল্লাহতে বিশ্বাসী, তারা তাদের মানসিকতায় একটি মূলনীতি সেট করে রেখেছেন এমন; কুরআনের সূত্রগুলো যদি বিজ্ঞানের থিওরীর সাথে মিলে, তাহলে সেগুলো গ্রহন করা হবে। বাদবাকি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের উপরই আমল করা হবে। অথচ;একজন মুসলমান বিজ্ঞানির মনোভাব হওয়া উচিত ছিলো এমন; বিজ্ঞানের যে সূত্রগুলো কুরআনের বর্ণনার বিরুদ্ধে যাবে না, কেবল সেগুলোই গ্রহন করা হবে। আর এর পক্ষে লজিষ্টিক সাপোর্টও আছে। কিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যত অর্জন, সবগুলোই মানুষ আবিস্কার করেছে তার মেধা ও ব্রেইন খাটিয়ে। আর এই ব্রেইন তৈরি করেছেন আল্লাহপাক, পরিমিত ও সীমিত ক্ষমতা দিয়ে। তাহলে যুক্তি কী বলে? কার ক্ষমতা বেশি? সৃষ্টির নাকি স্রষ্টার?
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে; বিজ্ঞান ও কুরআনের মধ্যে মতের অমিল দেখা দিলে কুরআনের সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে মেনে নিতে হবে কারণ; দেড় হাজার বছর আগে থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত কুরআন তার সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনে নি। পক্ষান্তরে সময়ের সাথে সাথে একই বিষয়ে বিজ্ঞানের সিদ্ধান্তেরও পরিবর্তন হয়ে থাকে। ভূরি ভূরি উদাহরণ দেয়া যাবে। বিজ্ঞানিরা বছরের পর বছর চেষ্টা-তদবির করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। দেখা গেছে কিছুদিন পর তারা ফিরে এসেছেন তাদের সিদ্ধান্ত থেকে। একটি উদাহরণ দিই।
একসময় বিজ্ঞানিরা আমাদের জানিয়েছেন; পৃথিবী স্থির। চন্দ্র সূর্য ঘুরছে। প্রখ্যাত বিজ্ঞানি পিথাগোরাস টলেমি ও টাইকো ব্রাহের মতো বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানিরা এই মত দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কেপলার ও কোপার্নিকাস এর মতো বিজ্ঞানিরা এসে ফতোয়া দিলেন; আগের ধারণাটি সঠিক ছিলো না। সূর্য নয়, পৃথিবী ঘুরছে। আবার বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল বিজ্ঞানিরাই একমত পোষন করে বলেছেন;চন্দ্র সূর্য পৃথিবী সবগুলোই ঘুরছে। অনেক ঘুরাঘুরি করে এবারে তারা লাইনে এসেছেন। কারণ ১৪শ বছর আগে ঠিক এই কথাটিই কুরআন বলে রেখেছে। সুরায়ে ইয়াসিনে উল্লেখ রয়েছে ; চন্দ্র সূর্য পৃথিবী, সবকিছুই নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণ করছে।
এই আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, বিজ্ঞান ও কুরআনের মাঝে সম্পর্ক কখনো হয় সামঞ্জস্যপূর্ণ কখনো সাংঘর্ষিক। আর এটা নির্ভর করে বিজ্ঞানিদের সিদ্ধান্তের ধরণের উপর। এমন নয় যে, বিজ্ঞানিরা সব বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তেই পৌছতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ভুলও করেন। বিজ্ঞানিদের যে সিদ্ধান্তগুলো শুদ্ধ হয়, সেগুলো যে কুরআনের সাথে কেবল সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা না, অনুসন্ধিতসু দৃষ্টিতে খুঁজলে দেখা যাবে,ঢাকডোল পিঠিয়ে যে ব্যাপারগুলো আবিস্কারের কৃতিত্বে বগল বাজাচ্ছেন তারা, সেটা যদি হয় ভাল কিছু, তাহলে দেড় হাজার বছর আগে পবিত্র কুরআনে সেটা বিবৃত হয়ে আছে। সুতরাং আধুনিক বিজ্ঞানের সঠিক থিওরীগুলো যে কুরআন থেকেই উতসারিত, একথা আর না বললেও চলে।
পৃথিবীর মানুষ অনেক চেষ্টা-তদবির করে যে বিষযগুলো আবিস্কার করেছে, সেগুলো আবিস্কারের পেছনে মূল সূত্র হিসেবে কাজ করেছে পবিত্র কুরআন। তারা স্বীকার করুক আর নাই করুক, এটাই বাস্তবতা। এ নিয়ে অনেক পুস্তকও রচিত হয়েছে। মহাবিশ্বে এমন কিছু নেই যার বর্ণনা বা ইঙ্গিত কুরআনে দেয়া হয় নি। আমরা যদি খুঁজে না পাই, সেটা আমাদের অজ্ঞতা। পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য, মানব সৃষ্টির কলা-কৌশল, জিন তত্ত্ব, মধ্যাকর্ষন শক্তি, মহাশূন্যযান, ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, জিওলজি, ডিএনএ...কী নেই কুরআনে? আমরা অজ্ঞ ও অন্ধ মুসলমানরা সেগুলো কুরআনে খুঁজে না দেখে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকি। আর অমুসলিম বিজ্ঞানিরা যখন একটা একটা করে আবিস্কারের ঘোষনা দেয়,তখন আমরা কৃতজ্ঞতায় গদগদ হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি।
তিন \
বিজ্ঞানের মূল উপাদান মনে করা হয় গনিতকে। গনিত না বুঝলে কারো পক্ষে বিজ্ঞান বুঝা সম্ভব নয়। যেহেতু কুরআনকে বলা হয়েছে হাকীম বা বিজ্ঞানময়, সুতরাং গনিতের মৌলিক দিক নির্দেশনা যদি কুরআনে না থাকে, তাহলে তো হবে না। চলুন উদাহরণ হিসেবে বিসমিল্লাহকেই সামনে নিয়ে আসি।
আরবি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বাক্যে ১৯টি অক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে। এই ১৯ সংখ্যাটিকে বেইজ ধরে হিসেব করলে দেখা যায়,কুরআন কতবেশি পরিকল্পিত ।বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীমে শব্দ রয়েছে ৪টি। ইসিম, আল্লাহ, রহমান, রহীম। সমস্থ কুরআন শরীফে ইসিম শব্দ এসেছে ১৯ বার। এই ১৯ বিসমিল্লাহর ১৯ দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য। আল্লাহ শব্দ আছে ২৬৮৯ বার, রহমান ৫৭ বার এবং রহীম ১১৪ বার। প্রত্যেকটি ১৯ দিয়ে বিভাজ্য।
স্বরণ রাখার মতো একটি তথ্য হলো,আল্লাহপাকের সত্ত্বাগত নাম একটাই, আল্লাহ। গুণবাচক নাম রয়েছে অসংখ্য। যদিও খোলা বাজারে প্রচলিত একটি কথা হলো, আল্লাহর নাম ৯৯টি। এই কথাটি কিন্তু মোটেও সঠিক নয়। কুরআন শরীফেই আল্লাহপাকের ১১৪টি নাম রয়েছে। আর অনুসন্ধিৎসু হাদিস বিশারদরা বিশ্বনবীর হাদিস ঘাটাঘাটি করে আল্লাহর ১০ হাজারেরও বেশি গুণবাচক নামের সন্ধান পেয়েছেন বলে তারা আমাদের জানিয়েছেন। তো পবিত্র কুরআনে আল্লাহর নাম রয়েছে ১১৪টি যা ১৯ দিয়ে বিভাজ্য।
কম্পিউটার আমাদেরকে বিসমিল্লাহর ১৯ সংক্রান্ত আরো যে সকল তথ্য দিযেছে, তাতে আমি মোটামুটি নিশ্চিত, কম্পিউটারের যদি জীবন থাকতো, আর তাকেও আমাদের মতো ক্বিয়ামতের মাঠে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ব্যাপার থাকতো, তাহলে তার সকল অপব্যবহার ও নষ্টামীর সফ্টওয়ারের সুযোগ করে দেয়ার পাপ আল্লাহপাক ক্ষমা করে দিতেন এই বিসমিল্লাহ সংক্রান্ত সুন্দর সুন্দর তথ্য বের করে দেয়ার কারণে । বিসমিল্লাহ সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা নিয়ে বিরাট বিরাট পুস্তক রচিত হয়েছে। এখানে একটি মাত্র তথ্য তুলে ধরছি।
পবিত্র কুরআনের প্রথমেই রয়েছে আলিফ লাম মীম। অগুলোকে বলা হয় হরফে মুক্বাত্ত্বাআত। মোট ২৯টি সুরার প্রথমে ১৪টি বর্ণ ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ২৯+১৪+১৪=৫৭ বিসমিল্লাহর ১৯ দিয়ে বিভাজ্য। আবার এই আলিফ লাম মীম মোট ৬টি সুরার প্রথমে ব্যবহৃত হয়েছে। আর আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, প্রত্যেকটি সুরায় এই অক্ষরগুলো যতবার ব্যবহৃত হয়েছে, তার সমষ্টিও ১৯ দিয়ে বিভাজ্য। যেমন;
সুরা আলিফ লাম মীম সমষ্টি ১৯ দিয়ে বিভাজ্য
বাক্বারা ৪৫০২ ৩২০২ ২১৯৫ ৯৮৯৯ ’’ ” ”
ইমরান ২৫২১ ১৮৯২ ১২৪৯ ৫৬৬২ ” ” ”
আকাবুত ৭৭৪ ৫৫৪ ৩৪৪ ১৬৭২ ” ” ”
রূম ৫৪৪ ৩৯৩ ৩১৭ ১২৫৪ ” ’ ”
লোকমান ৩৪৭ ২৯৭ ১৭৩ ৮১৭ ” ’ ’’
সেজদাহ ২৫৭ ১৫৫ ১৫৮ ৫৭০ ” ” ”
মোট ৮৯৪৫ ৬৪৯৩ ৪৪৩৬ ১৯৮৭৪ ” ” ”
আল কুরআনের নিপূণ কারিগর আল্লাহপাকের নিখঁত এবং বিস্ময়কর উপস্থাপনা দেখুন। সবগুলোর সমষ্টির যোগফল ১৯৮৭৪, ১৯ দিয়ে বিভাজ্য। আবার আলিফ লাম মীমের প্রত্যেকটির সমষ্টি ৮৯৪৫+৬৪৯৩+৪৪৩৬কে যোগ করলেও যোগফল হয় ১৯৮৭৪ যা ১৯ দিয়ে বিভাজ্য। এটা কাকতাল নয়। এতো নিখুঁত মিলকে কাকতালীয় বলার সুযোগ নেই। এটা মহা পরিকল্পনাকারী আল্লাহপাকের মহান নিদর্শন। পৃথিবীর নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বড় বড় ডিগ্রিধারী সেই মহাজ্ঞানী বুদ্ধির ফেরিঅলাদের বলি, পুরো কুরআন না বুঝলেও শুধুমাত্র বিসমিল্লাহ’র মহা গাণিতিক অত্যাশ্চয্যে একবার চোখ বোলান। আপনার বিবেক যদি আপনার সঙ্গ ত্যাগ না করে, তাহলে স্বীকার করতে বাদ্য হবেন, বিজ্ঞানের মূল উপাদান গণিতের আসল ফর্মূলাগুলো কুরআনেই আছে।
পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য
সৃষ্টির আগে পৃথিবীর অবস্থা কেমন ছিলো ? পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে ? সৃষ্টি প্রণালি কেমন ছিলো,এ নিয়ে বিস্তর গবেষনা হয়েছে । এখনো হচ্ছে । আলেমদের কাছে পৃথিবীর সৃষ্টি প্রণালি নিয়ে প্রশ্ন করলে দুটি জবাব পাওয়া যায় । (এক) কুন-ফাইয়াকুন সূত্রে । কোনো কিছু সৃষ্টির ইচ্ছা হলে আল্লাহপাক শুধু বলেন, হও । অমনিতেই হয়ে যায়। (দুই) ৬ দিনে । জমিন- আসমান সৃষ্টিতে আল্লাহপাক ছয়দিন লাগিয়েছেন। কোনো বস্তু তৈরিতে আল্লাহর উপকরণ বা সময়ের দরকার হয় না । তবুও ছয়দিন লাগিয়ে পৃথিবী সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো আমাদেরকে শিক্ষা দেয়া; কোনো কাজে তাড়াহুড়া করো না । এই আমাকে দেখো , ক্ষমতা ছিলো আমার । চাইলে এক মাইক্রো সেকেন্ডেরও কম সময়ে পৃথিবী সৃষ্টি করতে পারতাম । তবুও আমি ছয়দিন লাগিয়েছি ।
উপরিউক্ত বক্তব্য থেকে পৃথিবীর সৃষ্টিপ্রণালি কিন্তু ক্লিয়ার হয় নি । আল্লাহপাক নিজ কুদরতে এবং ৬ দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ঠিক আছে । কিন্তু সৃষ্টির প্রক্রিয়াটা কী ছিলো,সেটা জানা যায় নি । তাফসীরকারকগণ এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে রাজি নন। বিষয়টি নিয়ে গবেষনা আরম্ভ করলেন বিজ্ঞানিরা । শতশত বছর গবেষনা করে এক সময় পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হলেন তারা। ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের বিজ্ঞানি G Lemaiter সর্বপ্রথম Big bang বা মহাবিস্ফোরন তত্ত্বের প্রস্তাব করলেন । এরপর আরো ৩৮বছর চললো চুলচেরা গবেষনা । অবশেষে ১৯৬৫ সালে এসে বিজ্ঞানি উইলসন,পেনজিয়াস প্রমাণ করলেন;মহাবিশ্ব সৃষ্টির মৌলিক তত্ত্ব হচ্ছে বিগ ব্যাং । আর যুগান্তকারি এই আবিস্কারের স্বীকৃতি হিসেবে উইলসন ও পেনজিয়াস নোবেল পুরোস্কার লাভ করলেন।
বিগ ব্যাং হচেছ এমন এ ঘটনা, যার আগে নভোমন্ডল-ভূ-মন্ডল ,চন্দ্র,সূর্য,গ্রহ-নক্ষত্র গ্যালাক্সি ইত্যাদি কিছুই ছিলো না। অর্থাত বর্তমান মহাবিশ্বের পদার্থ, শক্তি, স্থান-কাল একটি বস্তুপিন্ডে কেন্দ্রিভূত ছিলো। যে বস্তুপিন্ডে ছিলো অসীম ঘনত্ব ও অগাধ উষ্ণতা । একসময় বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়। পৃথিবী অস্থিত্বে আসে। চন্দ্র সূর্য গ্রহ-নক্ষত্র স্ব স্ব স্থানে স্থাপিত হয়।
আলেম সমাজের চিন্তবিদগণ বিগ ব্যাং থিওরীর সাথে একমত হতে চান না । আবার আশ্চর্যজনকভাবে সৃষ্টিরহস্যের বিকল্প কোনো ব্যাখ্যাও উপস্থাপন করেন না। আথচ; যে বিগ ব্যাং থিওরিকে আলেম সমাজ গ্রহণ করতে রাজি নন,যে তত্ত্বটি আবিস্কারের কৃতিত্বে বিজ্ঞানিরা আত্মহারা, আমরা সেটা খুজে না পেলেও দেড় হাজার বছর আগে আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে এই সূত্রটি কিন্তু উল্লেখ করে দিয়েছেন । সুরায়ে আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলে দিয়েছেন; اولم ير الذين كفروان السموات والارض كانتا رتقا ففتقنهما “অবিশ্বাসিরা কি লক্ষ্য করে দেখে না নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল (একটি বস্তুর ন্যায় )পরস্পর সংযুক্ত ছিলো । অতঃপর আমি এদের ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি।”
আরবি রাত্ক শব্দের অর্থ পদার্থ শক্তি ও স্থান-কালের একটি সংযুক্ত প্রক্রিয়া। আর ফাত্ক মানে কোনো সংযুক্ত বস্তুকে পৃথক করা , ভেঙ্গে টুকরো করা,বিচ্ছিন্ন করে দেয়া ইত্যাদি । সহজ মানে হলো; পৃথিবী সৃষ্টির বহুল আলোচিত মহাবিস্ফোরণ তথ্যটি পবিত্র কুরআনে বহু আগেই বিবৃত হয়ে আছে। এখন আমরা যদি সেটা খুজে বের করতে না পারি, তাহলে এই ব্যর্থতা কার?
আবার পৃথিবী যে আল্লাহপাক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমেই সৃষ্টি করেছেন, পবিত্র কুরআনে তার আরো প্রমাণ আছে। কিয়ামতের পুর্বে হযরত ইস্রাফিল আ.শিঙ্গায় ফু দেবার পর যে অবস্থার সৃষ্টি হবে, এবং মানুষকে আবার নতুন করে সৃষ্টি করা হবে, সেদিকে ইঙ্গিত করে পবিত্র কুরআনের সুরায়ে ইয়াসিনের ৫৩নং আয়াতে বলা হয়েছে; ان كانت الاصيحة واحدة فاذاهم جميع لدينا محضرون
“এটাহবে এক মহা বিস্ফোরণ, আর তাদের সবাইকে আমার সামনে এনে হাজির করা হবে। আরবি صيحة অর্থ বিগ ব্লাস্ট বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম বিগ ব্যাং । এই আয়াত দ্বারা বুঝাযাচ্ছে বিগব্লাষ্ট বা বিগ ব্যাং সংঘটিত হবে দ্বিতীয়বার সৃষ্টির সময়। আবার সুরায়ে আম্বিয়ার ১০৪ নং আয়াতে আল্লাহপাক ঘোষনা দিয়েছেন; كما بدأنا اول خلق نعيده
প্রথমবার সৃষ্টির সময় যেভাবে শুরু করেছিলাম, পূণরায় একই পদ্ধতি অনুস্বরণ করা হবে। আর যেহেতু দ্বিতীয়বার সৃষ্টির সময় মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমেই সেটা করাহবে,তাহলে বুঝতে তো আর সমস্যা হবার কথা নয় প্রথমবার একইভাবে মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমেই করা হয়েছিলো।
এবারে প্রশ্ন হলো; পৃথিবী কতো সময়ে সৃষ্টি করা হয়েছে ? এ ব্যাপারে কয়েকটি তথ্য পাওয়া যায়। সুরায়ে ইয়াসিনের ৮২নং আয়াতে রয়েছে; انما امره اذا اراد شيئاان يقول له كن فيكون
প্রকৃতপক্ষে কোনো কিছু সৃষ্টির জন্য আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তখন শুধু বলেন,হও, অমনি হয়ে যায় । এই সূত্র সামনে রাখলে পৃথিবী সৃষ্টিতে এক সেকেন্ড সময়ও লাগার কথা নয়। আবার সুরায়ে সেজদার ৪নং আয়াতে বলা হয়েছে; خلق السموات والارض فى ستة ايام
নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল এবং এর অন্তরবর্তী সবকিছুকে আল্লাহপাক ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে সুরায়ে হা-মীমের ১২নং আয়াতে বলা হয়েছে;فقضهن سبع سموات فى يومين অতএব,দুইদিনে সাত আসমান এর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এখানে প্রথমেই একটি তথ্য জানিয়ে রাখি,পবিত্র কুরআনের যেসব আয়াতে সৃষ্টি তত্ত্ব আলোচিত হয়েছে,সেখানে দিন বলতে আমাদের পৃথিবীর দিন বুঝানো হয়নি। এই দিন মানে একটি সময়কাল । যেমন;সুরায়ে হজ্জের ৪৭নং আয়াতে বলা হয়েছে; ان يوما عند ربك كالف سنة مماتعدون প্রকৃতপক্ষে তোমার প্রভুর দরবারে একদিন তোমাদের হিসাবে এক হাজার বছরের সমান। সুরায়ে মা’আরিজের ৪নং আয়াতে বলা হয়েছে; تعرج الملائكة والروح اليه فى يوم كان مقداره خمسين الف سنة ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহপাকের নিকট একদিনে পৌছে,এই একদিনের পরিমাণ ৫০ হাজার বছরের সমান। এর মানে আল্লাহর কাছে ইয়াওমুন বা দিন মানে একটি সময়কাল ।
সবগুলোর মধ্যে মিল তে পারে এভাবে; আল্লাহপাক পৃথিবী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রথমে মহা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। তারপর আদেশ করেছেন,কুন, মানে হও। সৃষ্টি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ৬দিনে। অর্থাত একটি নির্দিষ্ট সময়কাল নিয়ে।
অনেকের কাছেই একটি ব্যাপার সম্ভবত অজানাই রয়েগেছে। সেটাহলো; পৃথিবীর সৃষ্টিপ্রণালি কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। কুন-ফাইয়াকুনের সূত্র ধরে মহাবিশ্বের স¤প্রসারণ কিন্তু চলছেই। আর এদিকে ইঙ্গিত করেই সুরায়ে ফাতিরের ২১নং আয়াতে বলা হয়েছে; يزيد فى الخلق مايشاء আল্লাহপাক তাঁর সৃষ্টিকে যেমন ইচ্ছে বর্ধিত করেন। কেউ যদি ভাবেন; পৃথিবী বর্ধিতকরণের কাজতো আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত। আল্লাহ কি ইচ্ছা করছেন? পবিত্র কুরআন তারও জবাব দিয়ে রেখেছে । সুরায়ে যারিয়াতের ৪৭ নং আয়াতে বলা আছে, والسماء بنينها بأيد وانالموسعون আমি আকাশ সৃষ্টি করেছি এবং আবশ্যই তা সম্প্রসারন করে চলেছি। এর মানে পৃথিবী ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। হতেই থাকবে।
চার \
মানব সৃষ্টিঃ
আল্লাহপাকের এক আশ্চয্য সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। লক্ষ লক্ষ কোষ দ্বারা গঠিত হয়েছে মানব দেহ। অনেক জটিল কারিগরিতে নিখুত নৈপুন্যতায় আল্লাহপাক একটি মানব শিশুকে তৈরি করেন। পুরুষের প্রজনন কোষ যার নাম শুক্রানো এবং নারীর প্রজনন কোষ যার নাম ডিম্বানু। উভয় কোষ মিলিত হয়ে ভ্র“ণ তৈরি হয়ে চলে যায় মাতৃগর্ভে, একটি থলের মতো তৈরি করে রাখা জরায়ূতে। এটি মাতৃগর্ভে কয়েকটি স্থর অতিক্রম করে মানব শিশুতে রূপান্তরিত হতে মোটামুটি ২৭০/২৮০ দিনের মতো লেগে যায়। তারপর একটি ফুটফুটে সুন্দর শিশু পৃথিবীতে আসে।
প্রত্যেক মানুষের শরীরে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রমেেেজাম থাকে। এর ২৩টি আসে বাবার শুক্রানো থেকে,২৩টি আসে মায়ের ডিম্বানু থেকে। এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়ার কাজ করার ক্ষমতা মোটামুটি এক ও অভিন্ন। এরা মূলত দৈহিক বৈশিষ্ট নিয়ন্ত্রন করে। এদের বলাহয় দেহ ক্রোমোজোম। বাকি একজোড়া হলো লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। এর অপর নাম যৌন বৈশিষ্ট নিয়ন্ত্রক ক্রোমোজোম । এটি আবার দুই প্রকার। পুরুষ ক্রোমোজোম স্ত্রী ক্রোমোজোম। পুরুষ ক্রোমোজো কে চিহ্ণিত করা হয় ণ দ্বারা আর স্ত্রী ক্রোমোজোমকে ঢ দ্বারা। মেয়েদের যৌন ক্রোমেজেমের সাংকতিক চিহ্ন ঢঢ । কিন্তু ছেলেদের ঢণ । আর ঠিক এই সূত্রটিই আমরা দেখতে পাই পবিত্র কুরআনের সুরায়ে নাজমের ৪৫নং আয়াতে وأنه خلق الزوجين الذكر والانثى- من نطفة اذا تمنى
আর তিনি নুতফার মধ্যে মেইল- ফিমেইল জোড়া সৃষ্টি করেছেন যখন এটা ঙ্খলিত। এখানে خلق الزوجين الذكر والانثى দ্বারা জোড়া ক্রোমোজোমের ঢ ও ণ এর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আল কুরআনে জিন তত্ত্ব ঃ
জিনতত্ত্ব- এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ হচ্ছে; জিন মানে বংশগতি নিয়ন্ত্রনকারি ন্যূনতম একক। জিন উঘঅ বা ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। প্রতিটি জীবের বৈশিষ্টাবলি জিনের মাধ্যমেই বংশ পরস্পরায় সঞ্চারিত হয়। একজন মানুষের শরীরের ২৩ জোড়া ক্রোমেজোমে জিনের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার । পবিত্র কুরআনে জিন সম্বন্ধে বলা হয়েছে; من نطفة خلقه فقدره একটি নুতফা থেকে আল্লাহ তাকে(মানুষকে) সৃষ্টি করেছেন এবং তার শরীর বৃত্তিয় পরিণতি নির্ধারণ করেছেন। আরবি فقدره শব্দের অর্থ হলো,মানসিক ও শারীরিক বৃত্তীয় সাদৃশ্যের উদ্ভব হওয়া।
ডি.এন.এ
ডি.এন,এ হলো জীব কোষের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান ক্রোমোজোমের একমাত্র স্থায়ী প্রাণ-রাসায়ণিক যৌগ। এটি জিনের সাংগঠনিক উপাদানরূপে জীবনের প্রজাতিসত্ত্বা ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে। জিন এবং ডিএনএ পরস্পর সহযোগিতার মাধ্যমেই কাজ করে থাকে। ডিএনএ সম্পর্কে সুরায়ে জাসিয়ার ৪নং আয়াতে বলা হয়েছে; وفى خلقكم وما يبث من دابة ايت لقوم يوقنون তোমাদের চরিত্র সত্ত্বায় এবং পশুদের মধ্যে যা তিনি (পৃথিবীময়) ছড়িয়ে দিয়েছেন,এতে বিশ্বাসীদের জন্যে রয়েছে নিদর্শনসমূহ।
ফিজিক্স
ফিজিক্স বা পদার্থ বিজ্ঞানের মৌলিক কথাটি কিন্তু আল্লাহপাক কুরআনে বলে দিয়েছেন। আমাদের চারপাশের জগতই হলো পদার্থের জগত। পদার্থকে ভেঙ্গে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে পরিণত করলে এক একটি অংশের নাম হয় অনু। অনুকে ভেঙ্গে যদি এতো ক্ষুদ্র অংশে পরিণত করা হয় যা খালি চোখে দেখা যায় না, তাহলে তার নাম হলো পরমানু। ১০ লক্ষ পরমানু একত্র করলেও খালি চোখে দেখা যাবে না। মহান আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের সুরায়ে সাবার ৩নং আয়াতে এই পরমানুর কথাটিও বলে রেখেছেন। عالم الغيب لايعزب عنه مثقال ذرة فى السموات ولافى الارض ولااصغر من ذالك ولااكبر الافى كتاب مبين তিনি অদৃশ্য সম্বদ্ধে জ্ঞাত। আকাশ জমীনে একটি পরমানু এমন কি এরচেও ক্ষুদ্র কিংবা বৃহত কোনো কিছু তাঁর অগোচরে নয়। সবকিছুই লিপিবদ্ধ আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।
মধ্যাকর্ষন শক্তি
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষন করে। এর নাম মহাকর্ষ । আবার এই দুটি বস্তুর একটি যদি হয় পৃথিবী, তখন যে আকর্ণন সৃষ্টি হয়, তার নাম মধ্যাকর্ষন । উপরদিকে কোনোকিছু ছুড়ে মারলে আবারো নিচে নেমে আসে কারণ, মধ্যাকর্ষন শক্তি। মধ্যাকর্ষন শক্তি ব্যাতিত পৃথিবীর কোনো কিছু ব্যালেন্স পজিশনে থাকতে পারে না।
মধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারনাটি সর্বপ্রথম উপস্থাপন করেছিলেন মুসলিম বিজ্ঞানি আল কারেজমি। তিনি বলেছিলেন; The earth attracts everything towarchsit অর্থাত জীব ও জড় প্রত্যেক বস্তু পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয়। অবশ্য অষ্টাদশ শতকে এসে ব্রিটিশ বিজ্ঞানি আইজ্যাক নিউটন (Issac Newton)বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে তত্ত্বটি কনফর্ম করে সূত্রটি আবিস্কারের পুরো কৃতিত্ব নিজেন ঝুলিতে ভরে ফেলেন। মহা বিজ্ঞানি আল্লাহপাক সুরায়ে মুরসালাতের ২৫ ও ২৬ নং আয়াতে বলে রেখেছেন; الم نجعل الارض كفاتا-احياء وامواتا আমি কি পৃথিবীকে আকৃষ্টকারি বানাই নি? জীবিত ও মৃত প্রত্যেক বস্তু ধারণ করবার জন্য?
আকাশযান
cvwL AvKv‡k D‡o †h †KŠk‡ji gva¨‡g, Zvi bvg Lift and forward thrust ‡KŠkj । পাখি আকাশে উড়ার সময় তাকে বাতাসের চাপ সামনের দিক থেকে বাধা দেয়। মধ্যাকর্ষন শক্তি তাকে ভূ-পৃষ্টের দিকে টানে। পাখি তখন ডানা দুলিয়ে বাতাসের চাপকে বক্ষদেশে এনে কেন্দ্রিভূত করে ফেলে। কেন্দ্রিভুত এই বাতাসের আবার একটা ভরবেগ থাকে। ভরবেগ সংরক্ষিত থাকার কারণে পাখি বিপরীত দিকে গতি পায়। এক্ষেত্রে নিউটনের তৃতীয় সূত্র (প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে) সচল হয়।যার ফলে পাখি ডানা মেলে আকাশে উড়ে বেড়াতে পারে। বৈজ্ঞানিক কৌশল ব্যবহার করে পাখিকে আকাশে উড়তে শেখালেন কে?তিনিই তো আল্লাহ। আর এটা করেছেন মানুষকে আকাষ যান তৈরির কৌশল শিক্ষাদেবার জন্য। যাতে করে মানুষ বিমান রকেট ইত্যাদি আবিস্কার করে মহাশূন্যে যেতে পারে। আল্লাহর নির্দশনাবলি অবলোকন করতে পারে। আর এদিকে ইঙ্গিত করেই সুরায়ে নাহল এর ৭৯নং আয়াতে বলা হয়েছে;الم يروا الى الطير مسخرات فى جوالسماء ما يمسكهن الاالله ان فى ذالك لايات لقوم يوقنون তারা কি পাকিদের দেখে না কেমন অনুগত হয়ে মধ্য আকাশে উড়ে বেড়ায়। আল্লাহ ছাড়া অন্যকেউ তাদেরকে শূন্যে ভাসিয়ে রাখে নি । বস্তুত; বিশ্বাসীদের জন্য এখানে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।
কেমিষ্টি
রসায়ন এর মূল উপাদানই হচ্ছে পানি। বিজ্ঞানিদের দাবি, পৃথিবীর সৃষ্টিমূলে রয়েছে পানি। পানি থেকেই সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে ।ব্যাপারটি অনেক গবেষনা করে বের করতে হয়েছে তাদের।অথচ আল্লাহপাক সুরায়ে নূরের ৪৫নং আয়াতে বলে রেখেছেন;والله خلق كل دابة من ماء আল্লাহপাক প্রত্যেক প্রণীকেই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়ার যাবতীয় তত্ত্বের জন্য দু ধরণের কেন্দ্র থাকে। একটি থাকে মূল কেন্দ্র,আরো কতোগুলো থাকে পর্যবেক্ষন কেন্দ্র। মূল কেন্দ্রে থাকে একাট ওয়েদার ম্যাপ । প্রতিটি পর্যবেক্ষন কেন্দ্র থেকে টেলিগ্রাফ টেলিফোন ফ্যাক্স ও বেতারের মাধ্যমে আবহাওয়ার বিভিন্ন তত্ত্ব মূল কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে তত্ত্গুলোকে একটি মানচিত্রে সাংকেতিকভাবে অংকন করা হয়। তারপর যেসব জায়গায় বাতাসের চাপ সমান,তাদেরকে একটি রেখা টেনে যুক্ত করা হয়। এ রেখাকে বলে সমচাপ রেখা। এই সমচাপ রেখা টেনে উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ অঞ্চলকে পরস্পর থেকে আলাদা করা হয়। তারপর মানচিত্রে রেখাংকিত অংকের নিকটবর্তী অঞ্চলে কোনো নিম্নপাপ থাকলে দেখা হয় সেটা কোন্ দিকে অগ্রসর হচ্ছে ? যেদিকে সরে যাচ্ছে বলে মনে হয়, বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়াহয় সেদিকেই।
আবার নিম্নচাপ ক্ষেত্রটি যতই গভীর হবে, বায়ূর গতিবেগও ততই শক্তিশালি হবে। আর এভাবেই ঝড় বৃষ্টি সাইক্লোন ইত্যাদির পূর্বাভাস দেয়া হয়। আর এই সূত্রটি আল্লাহপাক শিখিয়ে দিয়েছেন পবিত্র কুরআনের সুরায়ে আরাফের ৫৭নং আয়াতে। বলেছেন;وهو الذى يرسل الرياح بين يدى رحمته حتى اذا اقلت سحابا ثقالا سقناه তিনিই সেই সত্ত্বা, যিনি অনুগ্রহ করে বৃষ্টির পূর্বে সু-সংবাদবাহি বাতাস পাঠিয়ে দেন। এমনাক বায়ূ রাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি আল্লাহ সেই মেঘমালাকেকোনো শুষ্ক ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করে।
বেতার ও টেলিভিশন
একুশ শতকের এই প্রযুক্তির যুগে পৃথিবীটাকে একদম হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে মানুষ।বিজ্ঞানিরা আমাদের সামনে দিগন্তের দরজা জানালা খুলেই চলেছেন। ঘড়ির প্রতি তাকালে গ্যালিলিয়'র কথা মনে পড়ে। বৈদ্যুতিক বাল্বের জন্য টমাস আলভা এডিশনকে আমরা স্বরণ করি।কম্পিউটারের সামনে বমলে ভেনেভার বুশ ও হাওয়ার্ড আইকনকে মনে পড়ে। রেডিও ও টিভির জন্য যথাক্রমে মারকোনি ও জন এল বেয়ার্ডকে স্করণ করি। পক্ষান্তরে বিশ্ব শান্তির অন্তরায় হিসেবে আজকাল যে মূল অস্ত্রগুলো ব্যাবহৃত হচ্ছে, অ্যাটম বোমা, পারমানবিক বোমা, বিভিন্ন ক্যাটাগরির মানবতা বিরোধী মরণাস্ত্র, অস্বীকার করার উপায নেই অগুলো সবই বিজ্ঞানেরই জারজ সন্তান। কোথাও অ্যাটমবোমার বিস্ফোরণ ঘটলে এর আবিস্কারক রবার্ট হিমারকে আমরা ক্ষোভের সাথে স্বরণ করি। পারমানবিক ধ্বংশযজ্ঞের জন্য ঘৃণার সাথে স্বরণ কার অটোহান ও মিনটারকে। যদি সুযোগ থাকতো আমার, তাহলে অই দুই ভদ্রলোককে আমি জিজ্ঞেস করতাম, অসব মরণাস্ত্র তেরি না করলে আপনাদের কি খুব বেশি সমস্যা ছিলো? কী দরকার ছিলো নিযুত-কোটি মানুষের মৃত্যু ঘন্ঠা তেরির?
খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর রা. মদীনা থেকে অনেক দূরে কোনো এক যুদ্ধে হযরত সারিয়া রা. কে সেনাপতির দায়িত্ব দিয়ে পাঠালেন। কয়েকদিন পর জুমআর খুতবায়র মধ্যেখানে হযরত উমর রা. হঠাৎ করেই বলে উঠলেন; ইয়া সারিয়াতাল জাবাল ! (হে সারিয়া,পাহাড়ের দিকে দেখো !) সমবেত মুসল্লিগণ বোকার মতো তাকাতে লাগলেন উমরের দিকে। ব্যাপার কী? সারিয়া তো এখানে নেই ! যুদ্ধে গেছেন। তাহলে হঠাত করে তার নাম ধরে উমরের এই চিতকারের মানেই বা কী?
নামাজের পরে উমরকে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন; সারিয়া আসুক, তার কাছ থেকেই জেনে নিও।
কয়েক মাস পর হযরত সারিয়া যুদ্ধ থেকে ফিরে এলে ঘটনাটি তার কাছে বর্ণনা করে রহস্যের সমাধান চাওয়া হলো। সারিয়া বললেন; আর বলো না, সেদিন সারাদিন আমরা যুদ্ধ করে বড়বেশি ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। ক্লান্তিতে আমাদের ঘুম এসে গিয়েছিলো। পাহারার দায়িত্বে থাকা সাথীরাও ঘুমিয়ে পড়েছিলো। এই অবস্থায় পাহাড়ের উল্টো দিক থেকে শত্র“রা আমাদেরকে আক্রমন করার জন্য এগিয়ে আসছিলো। আমরা তখন গভীর ঘুমে অচেতন! হঠাত আমার কানে এলো উমরের কন্ঠ! আমি ঘাবড়ে গেলাম। খলিফাতুল মুসলিমীন একানে আসলেন কখন? এদিক উদিক তাকিয়ে তাঁকে দেখতে না পেয়ে পাহাড়ে উঠলাম। তিনি আমাকে পাহাড়ে উঠতে বলেছেন। দেখি,অস্ত্রে-সস্ত্রে জজ্জিত হয়ে শত্র“রা এগিয়ে আসছে। তাড়াতাড়ি সবাইকে ডেকে তুলে তৈরি হলাম।অইদিন উমরের আওয়াজ না পেলে আমাদের অবস্থাযে কী হতো, বলা মুশকিল।
স্বীকার করুন আর নাই করুন, বিজ্ঞানিরা কিন্তু অই ঘটনা থেকে গবেষণার খোরাক যোগাড় করে নিলেন। শতশত মাইল দূরে হযরত উমরের আওয়াজ গিয়ে পৌছলো কেমন করে? নিশ্চই বাতাসের সাহায্যে। তাহলে তো বিশেণষ ব্যাবস্থায় বাতাসকে নিয়ন্ত্রনে আনা যায়। কিন্তু কীভাবে? শুরু হলো গবেষনা। অনেকেই গবেষনা কাজে মনোনিবেশ করলেন। সফল হলেন মারকুনি। তিনি শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে হাজার হাজার মাইল দূরের শব্দ আমাদের কাছে পৌছে দেবার রেডিও নামক যন্ত্রটি আবিস্কার করে ফেললেন। এই ফাঁকে আরো একটি তথ্য জানিয়ে রাখি। বিজ্ঞান বস্তু কেন্দ্রিক। বস্তু যেখানে নেই বিজ্ঞান সেখানে অচল। এ কারণেই বিজ্ঞান আমাদেরকে হাজার হাজার মাইল দূরের সংবাদ মুহুর্তের মধ্যে এনে দিতে পারছে কিন্তু আমাদের বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে আমাদের মৃত আত্মীয়রা কী অবস্থায় আছেন, বলতে পারেনা। কারণ, তারা বস্তুজগত ছেড়ে এমন এক বাস্তব জগতে চলে গেছেন,বিজ্ঞান যেখানে পৌছুতে পারে না। এই জগতের খবর জানতে হলে কুরআনের কাছে আসতে হয়। একইভাবে আমাদেরে শরীরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা বিজ্ঞনি তার সমাধান দিতে পারে।তবে আত্মা যেহেতু বস্তু নয়,আল্লাহপাকের একটি নির্দেশ মাত্র, সে জন্যে আত্মার স্বরূপ কিংবা প্রকৃতি সম্বন্ধে বিজ্ঞানের কাছে ন্যূনতম ধারণাও নেই।
টেলিভিশনের আইডিয়াটি কোথ্যেকে পাওয়া গেলো?
বিশ্বনবী সা. আল্লাহপাকের বিশেষ আমন্ত্রনে সাত আসমানের উপরে গিয়েছিলেন। ইসলামের পরিভাষায় যাকে বলা হয় মেরাজ। এক সময় বিজ্ঞানিরা মেরাজকে স্বীকার করতে না চাইলেও থিওরী অব রিলেটিবিটি আবিস্কারের ফলে এখন আবার মেনে নিচ্ছেন।মেরাজ বা উর্দ্ধগমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে নবী যখন ফিরে এলেন, অবিশ্বাসীরা তখন বিশ্বাস করতে চাইলো না। তারা বললো এতো কম সমযে এতো দীর্ঘ ভ্রমন, কোনো অবস্থাতেই সম্ভব না। শেষে তারা বললো, উর্ধাকাশের কথা বাদই দিলাম। আপনি তো বলছেন বায়তুল মুকাদ্দাছে যাত্রা বিরতী করেছেন। বলেন দেখি,আল আকসা মসজিদের দরজা- জানালা কয়টি?
রাসুল পড়লেন মহা মুশকিলে । তিনি ভ্রমন করেছেন রাতের বেলা। আবার দরজা-জানালা গুনে দেখার তো কোনো দরকার ছিলো না। এখন উপায়?
আল্লাহপাক জিব্রিল ফেরেশতাকে পাঠিয়ে দিলেন। জিব্রিল মসজিদে আকসার পুরো চিত্র তুলে ধরলেন নবীর সামনে। নবীজি দেখে দেখে বর্ণনা করতে লাগলেন। দেখাগেলো সবকিছু ঠিকই বলছেন।
ঘটনাটি বিজ্ঞানিদের চিন্তার খোরাক হয়ে গেলো। চিত্রের স্থানান্থর তাহলে সম্ভব? কিন্তু কীভাবে? শুরু হলো গবেষনা। এক্ষেত্রে জয়ী হলেন জন এল বেয়ার্ড্। আবিস্কার করে ফেললেন টেলিভিশন নামক দূরদর্শন যন্ত্রটি।
আপাতত শেষ কথা হচ্ছে, চলুন কুরআনের কাছে ফিরে যাই। আমাদের যতকিছু দরকার, কুরআনের কাছে পেশ করি। জবাব যদি খুঁজে না পাই, তাহলে আবার চেষ্টা করি। বার বার করি। তবুও না পেলে আমার থেকে ভালো জানেন; এমন কারো দ্বারস্থ হই। তারপরও রহস্যের চাঁদর সরে না গেলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। আমাদের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী যতটুকু দরকার, ততটুকু আমাদের নিশ্চই দেবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন