শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১০

তবুও ঈদ

একটি পশু আরেকটি পশুকে হত্যা করেনা 
কিন্তু মানুষ মানুষকে হত্যা করে। 
আমার দুর্ভাগ্যযে, আমি একজন মানুষ! 

একটি পশু আরেকটি পশুর জন্যে জীবন দেয় না, 
মানুষ মানুষের জন্যে জীবন দিয়ে দেয়, 
আমার সৌভাগ্যযে, আমি একজন মানুষ। 

মানুষে আর পশুতে বেসিক পার্থক্যটা হচ্ছে, মানুষের বিবেক আছে, পশুর নেই। সেই বিবেকটুকুই যদি মানুষ হারিয়ে ফেলে, তাহলে মানুষে আর পশুতে ব্যবধান থাকলো কি? 

একদিন পরে, রাত পোহালেই ঈদ, ইদ উল-আযহা। সামর্থবান মুসলমান পশু কুরবানি করবেন। গরু- মহিষ-খাসি। কেউ আবার দুম্বা। ক্ষমতা থাকলে উট। অনেকেই কুরবানির মাংশ গরীবকেও ভাগ দেবেন আবার কেউ কেউ ডীপ ফ্রীজের গলা পর্যন্ত জ্যাম করে রাখবেন। 

গরীব মানুষ, অসহায়, অনেক দিন হলো যাদের ঘরে ভালো রান্না হয় নি, মাংশের গন্ধটাই ভুলে গেছে যাদের কেউ কেউ, যারা সারাটা বছর ধরে অপেক্ষা করে এই ঈদে একটু মাংশ খাবে বলে, তাদের কথা কি আমাদের মনে থাকবে? আমরা কি আমাদের মানবিক বিবেকটাকে কাজে লাগাব? আমরা কি প্রমাণ করতে পারবো আমরা মানুষ,শ্রেষ্ট জীব! 
আমরা কি মন থেকে গেয়ে উঠতে পারবো- 
সকলের জন্য সকলে আমরা 
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে ! 

আমরা কি পারবো এবারের ঈদে পশু কুরবানির সাথে সাথ্র আমাদের ভেতরের পশুগুলকেও কুরবানি করে ফেলতে! 
যদি পারি, ঈদ ঠিক আছে 
যদি না পারি, কিসের তবে ঈদ! 
কিসের কুরবানি! 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন