শুরুটা একটু পেছন থেকেই করতে চাই। তা না হলে উলামায়ে কেরামের গোস্বার পরিমানটা আরো বেশি বেড়ে যাবে। লিখছি ইসলামী রাজনীতি নিয়ে। আসলে রাজনীতি নিয়ে তেমন কেউ লিখলেই ভাল করতেন, যিনি রাজনীতি করেন। যেহেতু রাজনীতির দুর্বোধ্য ব্যাপার-স্যাপার কখনোই আমার মাথায় ঢুকে নি, সে জন্য যা কিছু বলবো, অনেকেরই পছন্দ হবে না জানি। কিন্তু আমার কী করার আছে! আমি যা বুঝি, যদি ভুলও হয়, আমি যা বিশ্বাস করি, যদি অঠিকও হয়, আমাকে তো তাই লিখতে হবে। এর বাইরে আমি যাবো কেমন করে!
কথাটি ইতোপূর্বেও বলেছি আমি। কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যত কেমন? আর আমি যখন প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাবার পথ পাইনা, তখন মজা করে বলি, ভবিষ্যত কেমন বলবার জন্য আগে তো বর্তমানটা দেখা দরকার। এক কাজ করেন, একটি বাতি জ্বালিয়ে আনেন, আগে বর্তমানটা দেখি ...
বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির বর্তমানটা ধোঁয়াচ্ছন্ন, অগোছালো, আন্ডিসিপ্লেন্ড, উদ্দেশ্যহীন। আমার এই ধারনাটি মিথ্যে প্রমাণিত হলেই আমি বেশি খুশি হতাম। কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ কোথায়? আর তেমনটা হলে পাল্টা আমারই প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করবে, কেন এমন হবে? এ ব্যর্থতা কার? কে দায়ী এ জন্যে?
দুই \
বলছিলাম শুরুটা করা দরকার একটু পেছন থেকে। তা না হলে আমরা যদি পিছিয়ে গিয়ে থাকি, কেন পেছালাম, গলতিগুলো কী কী হয়েছে, সেটাতো বুঝতে পারবো না। প্রথম কথা হলো, নেতৃত্ব দেবার জন্য খুব বড় আলেম হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আলেম সমাজের তিন দিকপাল মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী, আশরাফ আলী থানবী এবং কাসিম নানুতবীর নেতার নাম ছিলো হাজী ইমদাদুল্লাহ মুজাহিরে মক্কি। জাদরেল এই তিন আলেমসহ অসংখ্য উলামায়ে কেরামের নেতা, হাজী ইমদাদুল্লাহ বড় আলেম ছিলেন না। পড়ালেখা ছিলো দশম শ্রেণী (কাফিয়া) পর্যন্ত। আজকের দিনে ইসলামী দলগুলোর নেতৃত্বে যে সব উলামায়ে কেরাম আছেন, তাদের একাডেমিক ইলিম হাজি ইমদাদুল উল্লাহ থেকে অনেক বেশি। কিন্তু সম্ভবত সেই জিনিষটি পুরোপুরি নেই, হাজী ইমদাদুল্লাহ গাঙ্গুহী থানবীদের মধ্যে যা ছিলো। এর পরের সিড়িতে মাও: হুসাইন আহমদ মাদানীদের সময়েও ইসলামী রাজনীতির সেই পহেলা নাম্বার সবক্টি নিয়মিতই পাঠ করা হতো। আজকের দিনে সেই সবক্টি আর চর্চিত হচ্ছে না!
এই ফাঁকে আরো একটি প্রসঙ্গ। আমার বুঝার ভুলও হতে পারে। কেউ হয়তো আমাকে ব্যাখ্যা করবেন, আমার ভুল শুধরে দিয়ে লজ্জা দেবেন আমাকে। লজ্জা পাবার অদম্য আশায় অপেক্ষা করবো আমি।
আজকালকার যুগে আল্লামার মূল্যহ্রাস শুরু হয়েছে! হযরতুল আল্লামের কোনো অভাবই নেই। আমাদের জানার আগ্রহটি খুবই সিম্পল। আল্লামা কাহাকে বলে? উহা কত প্রকার ও কী কী?
আল্লামার বাংলা হতে পারে মহাজ্ঞানী। আমরা নিশ্চই এই দাবি করবো না এ যুগের আল্লামা’রা শাহ ওয়ালী উল্লাহ, শাহ আব্দুল আজিজ, গাঙ্গুহী, থানবী, মাদানীদের চেয়ে বড় আলেম। ঘটনা যদি এমন হয়, তাহলে আমাদের জানতে ইচ্ছে করতেই পারে আল্লামার শুভ জন্মদিনটা করে? আমি আমাদের যে সকল মুরব্বীদের নাম নিলাম, তাদের বা তাদের যুগের আলেমদের নামের সাথে তো কখনো আল্লামা ব্যবহৃত হয় নি। তারা মাওলানাতেই সন্তুষ্ট ছিলেন। এবশ্য একজনের কথা আমরা শুনেছি। বেচারা আল্লামা ছিলেন । তবে আলেম ছিলেন না। তিনি আল্লামা ইকবাল।
এছাড়া ব্রিটিশ বিরুধী আন্দোলনের রূপকার কোনো আল্লামা ছিলেন না, ছিলেন মাওলানা শাহ ওয়ালী উল্লাহ। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের ফতোয়া দেয়া শাহ আব্দুল আজিজও ছিলেন মাওলানা, আল্লামা নন। আমরা যে প্রতিষ্ঠান নিয়ে গর্ব করি, সেই দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা কাসেম নানুতবীও আল্লামা হতে পারেন নি, মাওলানাই ছিলেন। যে ফ্যাক্টরী থেকে শত শত কিতাব উৎপাদিত হয়েছে, সেই আশরাফ আলী থানবীও আল্লামা ছিলেন না, মাওলানাতেই ছিলেন সীমাবদ্ধ। মাল্টা বিজয়ী মাদানী কখনো আল্লামা হতে চান নি। অত খাহেশ তাদের ছিলো না। এখন আমি যদি তাদের'চে বড় কিছু হয়ে যাই, তাহলে আমি আল্লামা, ঠিক আছি। আর যদি না হতে পারি, তো ...
অবশ্য এই কিছুদিন আগ পর্যন্ত, ছোট ছিলাম যখন, সেই সময়ে যাদের নামের সাথে আল্লামা ব্যবহৃত হতে দেখেছি, তাদের ইলমি পরিপক্ষতা, আধ্যাত্মিক গভীরতা ছিলো অনেক বেশি। শায়খে কৌড়িয়া, শায়খে গহরপুরী, চকরিয়ার সাব বা বিশ্বনাথী অথবা ছায়া হয়ে এখনো আমাদের সার্ভিস দিয়ে যাওয়া শায়খে ইমামবাড়ি অথবা শায়খুল হাদীস , আহমদ শফি, যদিও আকাবিরে দেওবন্দকে সামনে রাখলে বাড়াবাড়ি হয়ে যায়, তবুও এই নামগুলোর বা সমমর্যাদার নামের সাথে আল্লামার ব্যবহার হজম করা যায়। কিন্তু আজকাল তো আমরা আল্লামার দোকান খুলে বসেছি। এভাবে যদি আল্লামার সাপ্লাই বাড়তে থাকে, কয়েক বছর পরে আর কোনো মাওলানা খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ, সকলেই আল্লামা বনে বসে থাকবেন।
সেই সঙ্গে ছোট্ট করে বলি, বেয়াদবি হলে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলি, আমাদের এযুগের বড় বড় উলামায়ে কেরামের কেউই তো বলে দেন নি তাদের নামের সাথে আল্লামা জুড়ে দিতে। তাহলে অনুসারীরা এত আশিকে বে-ফানা কেন? নামের, পদবির চাকচিক্যের পেছনে মেহনত করার তো কোনো মানে হয় না। যাদের জন্য আমরা আল্লামা বলি, আমরা কি জানি তারা এতে খুশি হন না মোটেও। আর কেউ যদি এমন হন, যিনি খুশি হন, তাহলে আমাকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে, আল্লামা হবার কোনো যোগ্যতাই তার নেই।
তিন \
মূল প্রসঙ্গ ছেড়ে ডাইভার্ট হয়ে যাচ্ছি। বুঝতে পারছি ঠিক হচ্ছে না। তবুও। বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশ। ১৫ হাজার কওমী মাদরাসার দেশ। ৫০ লক্ষ কওমী মাদরাসা ছাত্রের দেশ। তাদের এক কোটি বাবা মায়ের দেশ, আরো ২টি কোটি ভাই-বোনের দেশ। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন কোটি সদস্যের কওমী পরিবার এদেশে। মুসলমান সাড়ে তের কোটি। এমন দেশেও আলেম সমাজ এবং ইসলামী দলগুলো কোণ্টাসা! অথচ সম্পূর্ণ বৈরী পরিবেশে ১৮ শতকের শেষ এবং উনিশ শতকের প্রথম ভাগে আমাদের মুরব্বী আলেম উলামা কীভাবে ইসলাম ও মাতৃভূমির জন্য রাজনীতি করে গেলেন? কিভাবে জয়ী হলেন তারা? কী ছিলো তাদের কাছে যা আজকের আলেমদের কাছে নেই? মাওলানারা পারলে আল্লামাদের তো আরো বেশি পারার কথা। পারছেন না কেন?
প্রশ্নটি অনেক ছিল ধরেই মাথায় নিয়ে ঘুরছিলাম। জবাব পাচ্ছিলাম না। সেটা পেলাম গত ১৫ এপ্রিল২০১০। প্রবীণ আলেম, ইউরোপ জমিয়তের ৯ বছরের সভাপতি, বর্তমান ইসলামী রাজনীতির নূরানী চেহারা দেখে ভয়ে রাজনীতি থেকে প্রায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যাওয়া মাওলানা আসগর হুসাইন সাহেব এর কাছ থেকে। আমার আব্বার বন্ধু ছিলেন বলে আমি তাঁকে চাচা ডাকি। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে বসবাসরত মাওলানা আসগর সাহেব ষ্টেইট ফরোয়ার্ড কথাবার্তা বলে অব্যস্থ। গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৯.৩০টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত অক্সফোর্ডে উনার সাথে বসার সুযোগ হলো আমার। মওকা পেয়ে আমিও ঝেঁকে ধরলাম তাঁকে। তিনিও কথা বললেন খোলামেলা ভাষায়।
আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, চাচা, রাজনীতি থেকে দূরে চলে গেলেন কেন?
তিনি বললেন, আমাদের আকাবিরীন যে মকসুদে রাজনীতি করতেন, সেটা এখন অনুপস্থিত।
বললাম, কী ছিলো সেটা?
বললেন, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর কিছু না।
আমি বললাম, আচ্ছা চাচা, বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির করুণ হালত তো জানেনই। এই দুরাবস্থার জন্য মূলত কোন্ কারণটিকে চিহ্নিত করবেন আপনি? অর্থাৎ আমি আসলে জানতে চাচ্ছি, অভাবটা কিসের?
তিনি বললেন, সহবত বা সান্নিধ্যের। ইসলামী রাজনীতির জন্য আল্লাহওয়ালার সান্নিধ্যে যাওয়া, নিজে আল্লাহওয়ালা হওয়া অত:পর নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে নিজের সান্নিধ্যে নিয়ে এসে আল্লাহ ওয়ালা বানানো। এটা ছিলো সব'চে জরুরী। আজ কেউ কারো সহবতে নেই। সবাই যার যার হাতে সাড়ে তিন হাত।
আমি বললাম, কুরআন-হাদীস সামনে থাকলে এবং এগুলো বুঝার যোগ্যতা থাকলে সহবত বা সান্নিধ্যের দরকার হবে কেন?
তিনি আমার দিকে ভুরু কুচকে তাকালেন। উদ্দেশ্য আন্দাজ করা, প্রশ্নটি আমি জানার জন্য করছি, নাকি ...। আশ্বস্থ হলেন তিনি। বললেন, ওলি-আউলিয়াদের সংস্পর্শ ও সান্নিধ্য ছাড়া কখনোই সফলতা আসে না। তুমি নিশ্চই অই কবিতা শুনে থাকবে
এক যামানা সহবতে বা আউলিয়া
বেহ্তর আজ সদ সালা তোয়াত্ব বে-রিয়া।
(ওলি আল্লাহদের সংষ্পর্শে কিছু মুহুর্ত কাটানো শত বছর খালিস ইবাদত থেকেও উত্তম। )
বেহ্তর আজ সদ সালা তোয়াত্ব বে-রিয়া।
(ওলি আল্লাহদের সংষ্পর্শে কিছু মুহুর্ত কাটানো শত বছর খালিস ইবাদত থেকেও উত্তম। )
মুফতী মুহাম্মদ শফি (রহ:) হাকিমুল উম্মত থানবীকে প্রশ্ন করলেন, “হযরত, কবি যে দাবিটি করলেন, এটা কি ঠিক?”
থানবী (রাহ:) জবাব দিলেন, “পুরা ঠিক নেহি। র্দ আসল শায়ের নে সহ্বতে আউলিয়াকো কম র্ক দিয়া। আসল্মে সদ সাল নেহি, লাকো সাল বুলনা চাহিয়ে থা। কেঁউকে ইবাদত সে জান্নাত মিলতি হে আর সহবতে আউলিয়াসে মালিকে জান্নাত।” (কবি পুরোপুরি সঠিক বলেন নি। তিনি সহবতে আউলিয়ার মান অনেকখানি কমিয়ে দিয়েছেন। আসলে শত বছর নয়, লক্ষ লক্ষ বছরের চেয়ে উত্তম বলা উচিৎ ছিলো। কেননা, ইবাদত দ্বারা জান্নাত পাওয়া যায় আর সান্নিধ্য দ্বারা মালিকে জান্নাত বা আল্লাহকে।”
সুতরাং বুঝতেই পারছো আল্লাহওয়ালাদের সান্নিধ্য কতবেশি জরুরী? বর্তমানে আল্লাহওয়ালাদের সান্নিধ্যের প্রয়োজনিয়তার ব্যাপারটিই আমাদের ইসলামী রাজনীতি থেকে উঠে গেছে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহওয়ালাদের খুঁজে পাবো কোথায়? চিনবোই বা কেমন করে?
তিনি আমাকে বললেন, তোমার এই প্রশ্নের জবাব মুফতী শফি সাহেব অনেক আগেই দিয়ে গেছেন। মুফতী শফির এক ছেলের নাম জকি কায়ফী। থাকতেন লাহোরে। মুফতী সাহেব ছেলেকে চিঠি লিখে উপদেশ দিলেন, “বাবা, সব সময় আল্লাহওয়ালাদের সহবতে থেকো।” ছেলে জানতে চাইলেন আল্লাহওয়ালার সন্ধান। বললেন, “বাবা, এখানে তো বড় কোনো আলেমই নেই। আমি আল্লাহওয়ালা কোথায় পাবো?”
জবাবে মুফতী শফি ছেলেকে লিখলেন, “বেটা জকি! ইঁহা কয়ী মসজিদ নেহি হায় কিয়া? আগর হায়, তো মসজিদ কা তো কয়ি মওজ্জিন হোগা। ওহি তো আল্লাহ ওয়ালা হে।” (বাবা জকি, তোমার এখানে কি কোনো মসজিদ নেই? যদি থাকে, তাহলে মসজিদের তো কোনো মুওয়াজ্জিনও থাকবেন। তিনিই তো আল্লাহওয়ালা।) এর মানে আল্লাহওয়ালা হওয়ার জন্য বড় আলেম হতে হবে, এখন কোনো কথা নেই।
উপরের অগোছালো আলোচনা থেকে আমরা যদি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে পারি, ইসলামী রাজনীতির সফলতার জন্য ওলি আউলিয়াদের সান্নিধ্যই প্রথম শর্ত, যদি এটা গ্রহণ করে নিই, তাহলে আমাদের ইসলামী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মিদের মধ্যে খুলুসিয়্যতের চর্চাটা শুরু হবে। সেই খুলুসিয়্যত, যা ছাড়া ইসলামী রাজনীতি করার একমাত্র ফায়দাই হলো সময় নষ্ট করা মাত্র।
চার \
বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির পশ্চাদগামিতা নিয়ে বর্ষিয়ান একজন আলেম ও অবসর প্রাপ্ত রাজনীতিকের মন্তব্য আলোচিত হলো। এবারে আমি আমার নিজের কথা বলি। আমার কাছে খুব তীব্রভাবে যে দু’টি জিনিসের অভাব অনুভূত হয়, তা হলো, ভিশন ও লিডারশিপ কোয়ালিটি। ভিশন ছাড়া পরিকল্পনাকে সঠিক ওয়ে’তে এগিয়ে নেয়া যায় না। আবার যোগ্যতা সম্পন্ন নেতৃত্বেরও বিকল্প নেই।
বললে বোধয় অত্যোক্তি হবে না বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতি এবং কওমী মাদরাসা একটি অপরটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অভিন্ন সাবজেক্ট। একটির গায়ে আচড় লাগলে ব্যথা অনুভূত হয় অন্যটির শরীরে। হবারই কথা। এদেশে ইসলামী রাজনীতির মূল উপকরণ ধরা হয় কওমী মাদরাসার ছাত্রদের। ইসলামী সংগঠনের আলেম নেতারা সভা ডাকলে পোস্টারিং মাইকিং এর কাজগুলো তো এদেরই করতে হয়। আন্দোলনের ডাক দিলে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে পুলিশের কাঁদানো গ্যাস ও লাঠিপেটা খেয়ে আন্দোলন সফল করবার জন্য মাঠে তো নামতে হয় এই কওমী মাদরাসা ছাত্রদেরই। এরা হলো রিজার্ভ ফোর্স। এত ব্যবহার করি আমরা ছেলেগুলোকে, অথচ তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ভিশন সেট করতে চাই না। আমরা কখনো কি ভেবে দেখেছি এই ছাত্রগুলোর মেধার প্রতি, প্রতিভার প্রতি আমরা সুবিচার করতে পারছি কিনা! তাদের আজকের চাওয়া, আগামীকালের প্রত্যাশা পুরণে কোনো ভাবনা আমাদের আছে কিনা! যদি না থাকে, আমরা যদি আমাদের ছাত্রদের সামনে তার পছন্দের টপিকটি রাখতে না পারি, আমাদের শিক্ষা সিলেবাসে তাকে যদি সেই জিনিষটি না দিই, যা সে চায়, খুব করে চায়, আর ভাবি, দিন দিন তরক্কী করবো আমরা, আমাদের শিক্ষকগণ যদি ভাবেন কওমী শিক্ষার ভবিষ্যত উজ্জ্বল, আমাদের ইসলামী দলগুলোর আলেম নেতৃবৃন্দ যদি ভাবেন তার পরেও এই ছেলেরা ইসলামী হুকুমত কায়েমের জন্য আজীবন মাঠে থাকবে, তাহলে এই ধারণা ব্যুমেরাং হতে খুব বেশি দিন লাগবে বলে তো মনে হয় না।
বললে বোধয় অত্যোক্তি হবে না বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতি এবং কওমী মাদরাসা একটি অপরটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অভিন্ন সাবজেক্ট। একটির গায়ে আচড় লাগলে ব্যথা অনুভূত হয় অন্যটির শরীরে। হবারই কথা। এদেশে ইসলামী রাজনীতির মূল উপকরণ ধরা হয় কওমী মাদরাসার ছাত্রদের। ইসলামী সংগঠনের আলেম নেতারা সভা ডাকলে পোস্টারিং মাইকিং এর কাজগুলো তো এদেরই করতে হয়। আন্দোলনের ডাক দিলে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে পুলিশের কাঁদানো গ্যাস ও লাঠিপেটা খেয়ে আন্দোলন সফল করবার জন্য মাঠে তো নামতে হয় এই কওমী মাদরাসা ছাত্রদেরই। এরা হলো রিজার্ভ ফোর্স। এত ব্যবহার করি আমরা ছেলেগুলোকে, অথচ তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ভিশন সেট করতে চাই না। আমরা কখনো কি ভেবে দেখেছি এই ছাত্রগুলোর মেধার প্রতি, প্রতিভার প্রতি আমরা সুবিচার করতে পারছি কিনা! তাদের আজকের চাওয়া, আগামীকালের প্রত্যাশা পুরণে কোনো ভাবনা আমাদের আছে কিনা! যদি না থাকে, আমরা যদি আমাদের ছাত্রদের সামনে তার পছন্দের টপিকটি রাখতে না পারি, আমাদের শিক্ষা সিলেবাসে তাকে যদি সেই জিনিষটি না দিই, যা সে চায়, খুব করে চায়, আর ভাবি, দিন দিন তরক্কী করবো আমরা, আমাদের শিক্ষকগণ যদি ভাবেন কওমী শিক্ষার ভবিষ্যত উজ্জ্বল, আমাদের ইসলামী দলগুলোর আলেম নেতৃবৃন্দ যদি ভাবেন তার পরেও এই ছেলেরা ইসলামী হুকুমত কায়েমের জন্য আজীবন মাঠে থাকবে, তাহলে এই ধারণা ব্যুমেরাং হতে খুব বেশি দিন লাগবে বলে তো মনে হয় না।
বাংলাদেশ ছিলো ইসলামী রাজনীতির জন্য চমৎকার একটি উর্ব্বর ভূমি। নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। যে ব্যাখ্যাই দেয়া হোক আর যেভাবেই দেয়া হোক, এদেশের আমজনতার সাথে ইসলামী দলগুলো সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর এরচে বড় ব্যর্থতা হলো, এই ব্যর্থতা নিয়ে কোনো অনুশোচনা পর্যন্ত নেই! এদেশের ইসলামী রাজনীতির পুরোধা যারা, তাদেরকে পরামর্শ দেবার স্পর্দা আমার নেই। আমি যখন আমার মতো কারো সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করি, তখন বলে থাকি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষকে প্রেরণা যোগায়। তার মানে তো এই নয় যে, ঐতিহ্যের দিকে ছুটে চলতে হবে। ঐতিহ্যের দিকে ছুটা মানে তো পেছনের দিকে যাত্রা। ইতিহাসকে, ঐতিহ্যকে স্বরণ করবো, লালন করবো হৃদয়ে, কিন্তু যাত্রা করতে হবে সামনের দিকে। একশ বছর পেছনে নয়, তাকাতে হবে একশ বছর পরের দিকে।
ইসলামী রাজনীতি নিয়েও আমাদের কথা বলতে হয় কারণ, বাংলাদেশের দ্বিধাবিভক্ত উলামায়ে কেরাম ও খন্ড খন্ড ইসলামী দলগুলোর জন্য মাঠ পর্যায়ে জবাবদিহি করতে হয় আমাদের। আমরা রাজনীতি করিনা, তবুও। আমরা নেতা-ফেতা হইনি, হতে চাইনি, তবুও। একটি কমন প্রশ্নের জবাব বারবারই এড়িয়ে দেতে হয় আমাদের। প্রশ্নটি হচ্ছে, একই আকীদা ও বিশ্বাসের অনুসারীদের মধ্যে এতগুলো ইসলামী দল কেনো? আমরা জবাব দিতে পারি না। জবাব আমাদের জানা নেই। এমন কেউ কি আছেন, জবাবটি যার জানা আছে?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন